গতকাল (শনিবার, ৭ মার্চ) ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেয়া ওই পোস্টে ট্রাম্পের এই মন্তব্য আসে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঘোষণার পর। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের দুটি প্রধান বিমানবাহী রণতরীর একটি, এইচএমএস প্রিন্স অব ওয়েলসকে ‘উচ্চ সতর্ক অবস্থায় প্রস্তুত’ রাখা হয়েছে।
ট্রাম্প লেখেন, ‘যুক্তরাজ্য, আমাদের একসময়কার মহান মিত্র, হয়তো তাদের মধ্যে সবচেয়ে মহান, অবশেষে মধ্যপ্রাচ্যে দুটি বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর বিষয়ে গুরুত্ব সহকারে ভাবছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঠিক আছে, প্রধানমন্ত্রী স্টারমার, এখন আর আমাদের সেগুলোর প্রয়োজন নেই—তবে আমরা মনে রাখব। আমরা এমন কাউকে প্রয়োজন মনে করি না, যারা যুদ্ধ জয়ের পর এসে যোগ দেয়!’
যুক্তরাজ্যকে ‘একসময়কার মহান মিত্র’ বলে উল্লেখ করায় দুই দেশের সম্পর্কের টানাপোড়েন আরও গভীর হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। গত বছর ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই এই দূরত্ব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু করা অভিযানে ইরানে হামলা অব্যাহত রাখায় দুই দেশের মধ্যে বিভক্তি আরও বাড়ে।
এদিকে যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় শনিবার জানায়, প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের সরকার যুক্তরাষ্ট্রকে “সীমিত প্রতিরক্ষামূলক উদ্দেশ্যে” তাদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে।
আরও পড়ুন:
এই ঘাঁটিগুলোর মধ্যে রয়েছে গ্লুচেস্টারশায়ারের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড এবং ভারত মহাসাগরে চাগোস দ্বীপপুঞ্জের দিয়েগো গার্সিয়া ঘাঁটি। শুরুতে খবর ছিল, স্টারমার যুক্তরাষ্ট্রকে এসব ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দেননি।
প্রাথমিক মার্কিন-ইসরাইলি হামলার পর স্টারমার যুদ্ধে যুক্ত হওয়ার বিষয়ে অনীহা প্রকাশ করেছিলেন। তিনি ফ্রান্স ও জার্মানির নেতাদের সঙ্গে যৌথ বিবৃতি দিয়ে বলেন, ‘সম্ভাব্য যেকোনো পদক্ষেপ প্রতিরক্ষামূলক হবে।’
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা আমাদের স্বার্থ এবং অঞ্চলে আমাদের মিত্রদের স্বার্থ রক্ষায় পদক্ষেপ নেব, প্রয়োজনে প্রয়োজনীয় ও সমুন্নত প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে, যাতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণ সক্ষমতা উৎসেই ধ্বংস করা যায়।’
তারা আরও বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা যুক্তরাষ্ট্র ও অঞ্চলের মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে সম্মত হয়েছি।’
তবে দেশে যুদ্ধে যোগ দেয়া বা না দেয়ার প্রশ্নে স্টারমারকে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে।
সোমবার যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে তিনি বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আক্রমণাত্মক হামলায় যোগ দিচ্ছি না।’ এসময়ে তিনি বলেন, ‘ব্রিটেনের জাতীয় স্বার্থ ও ব্রিটিশ নাগরিকদের জীবন রক্ষাই আমাদের অগ্রাধিকার।’





