অভিবাসন আইন প্রয়োগকারী সংস্থা আইসিইবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল পুরো যুক্তরাষ্ট্র। মিনেসোটার মিনিয়াপলিস থেকে শুরু করে লস অ্যাঞ্জেলেস, ওয়াশিংটন ডিসি, কলোরাডো, সান ফ্রান্সিসকো, রাস্তায় রাস্তায় হাজারো মানুষ। তীব্র শীত উপেক্ষা করে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন বয়সের মানুষ, বাদ নেই কেউ। ট্রাম্প প্রশাসনের অপারেশন মেট্রো সার্জ অভিযানের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা দেশজুড়ে ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ করেছে অন্তত ৪৬টি অঙ্গরাজ্যে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্প প্রশাসন মিনিয়াপলিসে ৩ হাজার ফেডারেল কর্মকর্তা মোতায়েন করেছে, যা স্থানীয় পুলিশ বাহিনীর চেয়ে পাঁচ গুণ বড়। এদিকে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদন বলছে, আইসিই এজেন্টদের পরোয়ানা ছাড়াই গ্রেপ্তারের ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে ট্রাম্প কয়েকদিন আগে কিছুটা নরম হলেও এবার ট্রুথ সোশ্যালে দেয়া এক পোস্টে বিক্ষোভকারীদের বিদ্রোহী বলে আখ্যা দিয়েছেন। অভিবাসন কর্মকর্তাদের পক্ষে গুণগান গেয়ে আবারো বিক্ষোভকারীদের ওপর দোষ চাপান ট্রাম্প।
এদিকে মিনিয়াপলিস এফবিআই ফিল্ড অফিসের ভারপ্রাপ্ত প্রধান জ্যারাড স্মিথকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। এই ফিল্ড অফিসের অধীনেই সম্প্রতি সাবেক সিএনএন সাংবাদিক ডন লেমনকে শুক্রবার গ্রেপ্তার করা হয়। অবশ নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছে সাংবাদিক লেমন।
আরও পড়ুন:
যুক্তরাষ্ট্রের সাংবাদিক ডন লেমন বলেন, ‘আমি আমার সারা জীবন সংবাদ প্রচারের জন্য ব্যয় করেছি। আমি থামবো না। এই মুহূর্তের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময় আর নেই। একটি স্বাধীন ও মুক্ত গণমাধ্যমের জন্য যারা সত্যের উপর আলোকপাত করে এবং ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিদের জবাবদিহি করতে বাধ্য করে। আবারও বলছি, আমি এখনই থামব না। আমি কখনও থামব না।’
সাংবাদিক লেমনকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় নিন্দা প্রকাশ করেছেন লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র। এদিকে মিনেসোটার গভর্নর টিম ওয়ালজ আবারো ফেডারেল বাহিনী প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মিনেসোটার জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার একমাত্র উপায় হল ফেডারেল সরকার তাদের বাহিনী প্রত্যাহার করে এই বর্বরতার অভিযান বন্ধ করবে।
মিনেসোটার গভর্নরের টিম ওয়ালজ বলেন, ‘তারা পরিস্থিতি বুঝতে পারছে না। মানুষের উপস্থিতি এবং মতামতকে তারা হালকা করে দেখছে। তাদের বাহিনী প্রত্যাহার করে এই বর্বরতার অভিযান বন্ধ করতে হবে।’
সম্প্রতি দুই মার্কিন নাগরিক ফেডারেল অভিবাসন এজেন্টদের গুলিতে নিহত হওয়ার পর চলমান বিক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে। রয়টার্স ও ইপসস জরিপ বলছে, এই অভিযানের জেরে ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির প্রতি জনসমর্থন তার দ্বিতীয় মেয়াদে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে।




