ইরান উত্তেজনার মধ্যেই ইসরাইল ও সৌদিতে অস্ত্র বিক্রি বাড়ালো ওয়াশিংটন

অ্যাপাচি হেলিকপ্টার
অ্যাপাচি হেলিকপ্টার | ছবি: সংগৃহীত
0

ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইসরাইলের কাছে ৬৬৭ কোটি ডলার মূল্যের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিলো যুক্তরাষ্ট্র। এরমধ্যে বেশিরভাগই থাকছে আক্রমণাত্মক অ্যাপাচি হেলিকপ্টার। সৌদি আরবের কাছেও নয়শো কোটি ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে ওয়াশিংটন। যদিও তেহরানে হামলার বিপক্ষে রিয়াদ।

গাজা উপত্যকায় দ্বিতীয় ধাপের যুদ্ধবিরতির মধ্যেও ট্রাম্পের ২০ দফা শান্তি চুক্তির শর্ত ভাঙছে ইসরাইল। অন্যদিকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনাও তুঙ্গে। ঠিক এমন সময় নিজেদের অস্ত্র ভাণ্ডার বাড়াতে মরিয়া তেল আবিব। সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছে ওয়াশিংটনও। এমনকি সৌদি আরবের কাছেও অস্ত্র বিক্রি বাড়াচ্ছে।

ইসরাইলের কাছে ৬৬৭ কোটি ডলার মূল্যের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে খোদ মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। এর মধ্যে রয়েছে ৩৮০ কোটি ডলারের ৩০টি আক্রমণাত্মক অ্যাপাচি হেলিকপ্টার। এছাড়াও ১৯৮ কোটি ডলার মূল্যের সামরিক যান পাবে ইসরাইল। অ্যাপাচি হেলিকপ্টারগুলো সরবরাহ করবে বোয়িং এবং লকহিড মার্টিন।

গাজায় গণহত্যা চালাতেও একই ধরনের হেলিকপ্টার ব্যবহার করেছে নেতানিয়াহু বাহিনী। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ইসরাইলি আগ্রাসনে অবরুদ্ধ ভূখণ্ডটিতে প্রাণহানি ৭১ হাজার ৬০০ জন ছাড়িয়েছে।

এরমধ্যে ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর থেকে চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেই প্রায় ৫০০ ফিলিস্তিনি হত্যার শিকার। অধিকৃত পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিদের ওপর গুলি চালানোর জন্য ব্যাপকভাবে অ্যাপাচি হেলিকপ্টার ব্যবহার করেছে ইসরাইল।

আরও পড়ুন:

মার্কিন জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য ইসরাইলের সামরিক শক্তি বৃদ্ধি এবং আত্মরক্ষামূলক সক্ষমতা বাড়াতে নতুন অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে আখ্যা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। যদিও প্রতি বছরই ইসরাইলে বিলিয়ন ডলার মূল্যের সামরিক সরঞ্জাম পাঠায় যুক্তরাষ্ট্র।

যার বেশিরভাগই বিক্রি নয়, দেয়া হয় সহায়তা। ফলে মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনা কমাতে ইসরাইলে মার্কিন অস্ত্র সরবরাহ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে আসছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এবং জাতিসংঘ।

এদিকে একইদিন সৌদি আরবের কাছে নয়শো কোটি ডলারের ৭৩০টি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র এবং সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে ওয়াশিংটন। যা সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র এবং স্থানীয় মিত্রদের স্থল বাহিনীকে রক্ষায় বড় ভূমিকা রাখবে বলেও জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।

ইরানের দিকে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের বিশাল বহর পাঠানোর বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষণায় চলমান উত্তেজনার মধ্যেই রিয়াদ ও তেল আবিবে অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিলো ওয়াশিংটন। যদিও ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক পদক্ষেপ বা কোনও পক্ষের আক্রমণের জন্য নিজেদের আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেয়া হবে না বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে রেখেছেন সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান।

এএম