ইরানের তেলবাহী জাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা

ইরানের তেলবাহী জাহাজ
ইরানের তেলবাহী জাহাজ | ছবি: সংগৃহীত
0

ইরান অভিমুখে নৌবহর পাঠানোর পর এবার দেশটির তেলবাহী জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের অভিযোগ, ছদ্মবেশী জাহাজে জ্বালানি রপ্তানি করে সন্ত্রাসী ও পরমাণু প্রকল্পে শত শত মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে তেহরান। যদিও এর আগেই পাল্টা জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছে ইরান। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের উত্তেজনা যখন তুঙ্গে তখন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, ইরানে হামলার সুযোগ খুঁজছে ইসরাইল।

আগামী কয়েকদিনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাবে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন এবং বেশ কয়েকটি গাইডেড-মিসাইল ধ্বংসকারী জাহাজ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কর্মকর্তাদের এমন বক্তব্য সামনে আসার পর মুখ খুললেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। দাভোস থেকে ফেরার পথে জানান, তেহরানের গতিবিধি নজরে রাখতে পাঠানো হয়েছে মার্কিন নৌবহর বা ‘আর্মাডা’।

ইরান ইন্টারন্যাশনালের তথ্য বলছে, ট্র্যাকার বন্ধ করে রাখায় রণতরী আব্রাহাম লিংকনের অবস্থান সহজে বের করার সুযোগ নেই ইরানের। যা ইঙ্গিত করে অতর্কিতে হামলার সুযোগ আছে যুক্তরাষ্ট্রের।

এর জবাবে ইরানের বিপ্লবী গার্ড জানায়, ওয়াশিংটনকে পাল্টা জবাব দিতে বন্দুকের ট্রিগারে আঙুল দিয়ে রেখেছে তাদের যোদ্ধারা।

অর্থনৈতিক দুরাবস্থায় জর্জরিত ইরানকে এবার অর্থনৈতিকভাবে কাবু করার পথে যুক্তরাষ্ট্র। বিশ্বের অন্যতম তেল রপ্তানিকারক দেশটির নয়টি তেলবাহী জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে মার্কিন ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট।

আরও পড়ুন:

শুক্রবার এক বিবৃতিতে ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট অভিযোগ করেন, ভিনদেশে তেল রপ্তানির জন্য স্যাডো ফ্লিট বা ছদ্মবেশী নৌযান ব্যবহার করে তেহরান। আরও জানান, পালাউ, পানামার পতাকা বহনকারী এ স্যাডো ফ্লিটের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে পণ্য আনা নেয়া করে ইরান ও রাশিয়া। তেহরানের এমন নয়টি জাহাজ ও এর মালিকানাধীন আট প্রতিষ্ঠানের ওপর সরাসরি নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ওয়াশিংটন।

এ নিষেধাজ্ঞার সঙ্গেও ইরানের সরকারবিরোধী বিক্ষোভের যোগসূত্র টেনেছে ওয়াশিংটন। শুক্রবারের বিবৃতিতে বলা হচ্ছে, যে সশস্ত্র যোদ্ধারা বিক্ষোভকারীদের নির্যাতন ও হত্যা করেছে তাদের প্রশিক্ষণ দিতে এ তেল বিক্রির অর্থ ব্যবহার করে ইরান।

পরিস্থিতি এতটাই ঘোলাটে যে এখনও পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের হামলার আশঙ্কা বাদ দিতে পারছে না ইরান। এ অবস্থায় তেহরানকে সতর্ক করছে আঙ্কারা। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দাবি, ইরানে হামলার সুযোগ খুঁজছে ইসরাইল।

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান বলেন, ‘প্রত্যাশা করি ঘটনাপ্রবাহ অন্যদিকে প্রবাহিত হবে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, ইসরাইল ইরানে হামলার একটা সুযোগ খুঁজছে। তেল আবিবের গতিবিধি থেকে এ ইঙ্গিত পাওয়া যায়।’

আরও পড়ুন:

ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের কারণে ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলনে নিহত বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। এরইমধ্যে আটক বিক্ষোভকারীদের বিচার শুরু করেছে তেহরান। যা নিয়ে বারবার আপত্তি তুলছে ওয়াশিংটন। বিক্ষোভকারীদের কঠোরভাবে দমনপীড়ন করায় ইরানের সরকারের প্রতি তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান। জাতিসংঘের অধিকার পরিষদে এ নিয়ে একটি প্রস্তাবও পাস হয়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার তুর্ক বলেন, ‘সরকার শুরুতে সংলাপের আহ্বান জানায় এবং মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব কমাতে রাষ্ট্রীয় ভর্তুকি দ্বিগুণ করার ঘোষণা দেয়। কিন্তু দুঃখজনকভাবে, খুব দ্রুতই পরিস্থিতি আবারও পুরনো ধাঁচের হত্যাকাণ্ডের ও গ্রেপ্তারের দিকে গড়ায়। দমন ও অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ কখনোই জনগণের অভিযোগ ও হতাশার সমাধান করতে পারে না।’

যুক্তরাষ্ট্রের নৌবহর ইরানের দিকে এগিয়ে যাওয়ার খবরে মধ্যপ্রাচ্যগামী বেশ কিছু ফ্লাইট বাতিল করেছে একাধিক আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা। আর, তথ্য প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম ও গোয়েন্দা সংস্থাকে সতর্ক করেছে খামেনি প্রশাসন।

এসএস