মার্কিন ফেডারেল সরকারের আকার ছোট করে সরকারি ব্যয় ও অপচয়রোধে দায়িত্ব দেয়া হয় ট্রাম্পের উপদেষ্টা ও বিশ্বের শীর্ষ ধনী টেসলার কর্ণধার ইলন মাস্ককে। ট্রাম্পের চালু করা সরকারি দক্ষতা বিভাগ এরইমধ্যে ৯৫ হাজার কর্মীকে ছাঁটাই ও বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে। এদের মধ্যে বিজ্ঞানী থেকে শুরু করে পার্কের গার্ডসহ হাজার হাজার সরকারি কর্মী চাকরি হারিয়েছেন।
এবার দ্বিতীয় দফায় চাকরি হারানোর শঙ্কায় আছেন ২৩ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী। গেল শনিবার সরকারি কর্মকর্তাদের নতুন করে চাকরিচ্যুতির হুমকি দিয়েছেন মাস্ক। ই-মেইলে ইলন মাস্ক ফেডারেল কর্মীদের সাপ্তাহিক কাজের রিপোর্ট চাওয়ার পরও অনেকে এর জবাব দেননি। মাস্কের অভিযোগ, খুব সাধারণ একটি প্রক্রিয়াকে কর্মীরা অবহেলা করেছে। দ্বিতীয়বারের মতো তাদের আবার মেইল করা হচ্ছে। এবার ব্যর্থ হলে তাদের আর চাকরি থাকবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
ইলন মাস্কের এমন উদ্যোগকে দুর্দান্ত বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, যারা কাজ করে না মাস্কের এমন পদক্ষেপের মাধ্যমে তাদেরকে খুঁজে বের করা যাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের সরকারের জন্য যারা কাজ করছে না, তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে মাস্কের দক্ষতা বিভাগ। যারা কাজ করছে না তাদের কি আমরা বেতন দিচ্ছি? তারা কোথায়? সরকারের অর্থ কোথায় যাচ্ছে? এরইমধ্যে আমরা হাজার কোটি ডলারের জালিয়াতি খুঁজে বের করতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের যাত্রা কেবল শুরু।’
এক সপ্তাহের কাজের হিসাব চেয়ে মাস্কের নির্দেশনার বিষয়ে মার্কিন সিভিল সার্ভিস পরিচালনাকারী স্বাধীন সংস্থা ওপিএম অবগত কিনা সে বিষয়টিও স্পষ্ট নয়। সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়, মাস্কের ই-মেইলের জবাব দেয়া বাধ্যতামূলক না। এতে চাকরি হারানোর কোন ঝুঁকি নেই। যারা জবাব দেবেন, তাদের অবশ্যই গোপনীয়তা বজায় রাখতে হবে বলেও জানানো হয়। ওপিএমের মানবসম্পদ বিভাগের ঠিকানা ব্যবহার করে ইলন মাস্কের পক্ষ থেকে ই-মেইলটি করা হয়। যার শিরোনাম ছিল গত সপ্তাহে আপনি কী করেছেন?
তবে কিছু হাই-প্রোফাইল ফেডারেল এজেন্সি মাস্কের নির্দেশনা মানতে বাধ্য নয়। এর মধ্যে আছে বিচার বিভাগ, পররাষ্ট্র দপ্তর, পেন্টাগন, এফবিআই, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ও জ্বালানি বিভাগ। এদিকে, মার্কিন মহাকাশ গবেষণা নাসা সংস্থা জানিয়েছে, তারা ইমেইলের উত্তর না দিলেও, এর প্রতিক্রিয়া জানাবে। মাস্কের এমন কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়েছে বেসামরিক বিমান কর্তৃপক্ষ ও বিমান ট্রাফিক কন্ট্রোলার্স অ্যাসোসিয়েশন।