হরমুজ দিয়ে তেল পরিবহন স্বাভাবিক হওয়ার দাবি যুক্তরাষ্ট্রের, বাস্তব চিত্র উল্টো

হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজ
হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজ | ছবি : সংগৃহীত
0

হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহন স্বাভাবিক হওয়ার দাবি করছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে বাস্তব চিত্র বলছে উল্টো। অর্থাৎ গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালিতে এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি জাহাজ চলাচল। এর মধ্যেই হরমুজ ও সৌদি আরবে হামলার ঘটনায় বিশ্ববাজারে বেড়েছে তেলের দাম। বাড়ছে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগও।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি সরবরাহপথ হরমুজ প্রণালি। মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়। তবে ইরান যুদ্ধের পর থেকে সেখানে জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে কমে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট বলেছেন, গত এক সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে প্রায় এক কোটি ব্যারেল তেল হরমুজ দিয়ে গেছে। অর্থাৎ যুদ্ধের আগের তুলনায় প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ সরবরাহ ফিরে এসেছে বলে দাবি ওয়াশিংটনের।

তবে ভিন্ন চিত্র দিচ্ছে ট্যাঙ্কার ট্র্যাকার থেকে প্রাপ্ত জাহাজ চলাচল সংক্রান্ত তথ্য। এছাড়া রয়টার্সও বলছে, সপ্তাহান্তে হরমুজ প্রণালি দিয়ে দৈনিক জাহাজ চলাচল একক সংখ্যায় নেমে এসেছে, যা গত ১০ দিনের গড় দৈনিক ১৪টির চেয়ে অনেক কম। অথচ যুদ্ধের আগে প্রতিদিন একশ’র বেশি জাহাজ এই পথ ব্যবহার করতো।

আরও পড়ুন:

যুক্তরাষ্ট্রের দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরানও। দেশটি বলছে, হরমুজ দিয়ে জাহাজ চলাচলের প্রবেশাধিকার তাদের নিয়ন্ত্রণে। অনুমোদন ছাড়া নির্দিষ্ট রুট ব্যবহার না করতে জাহাজগুলোকে সতর্ক করেছে তারা। এর মধ্যেই ইরানের ওপর নতুন করে হামলার ঘটনায় আরও চাপে পড়েছে জ্বালানি বাজার।

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, হরমুজে সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে তেলের দাম আরও বাড়তে পারে। কারণ বৈশ্বিক তেলের মজুতও আগের তুলনায় কমে এসেছে।

শুধু হরমুজ নয়, ইয়েমেনের হুথিদের হামলাও নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। লোহিত সাগরের প্রবেশপথ বাব আল-মানদেব প্রণালি ঘিরে হুথিদের তৎপরতা বাড়ায় এশিয়া-ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথও ঝুঁকিতে পড়েছে।

এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র সামরিকভাবে হরমুজের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি করলেও স্বাভাবিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের নিরাপদ পরিবেশ এখনো পুরোপুরি ফিরেনি। আর সেই অনিশ্চয়তার প্রভাবই পড়ছে বিশ্ববাজারে। যেখানে তেলের দাম এবং সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।

এসএস