ইরানের সাম্প্রতিক হামলা-পাল্টা হামলায় বিস্তার বাড়ছে আঞ্চলিক সংঘাতের। জড়িয়ে পড়ছে আঞ্চলিক মিত্ররা এবং কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলো। উত্তেজনা বাড়ছে জর্ডান থেকে ইরাক, হরমুজ প্রণালি থেকে বাব আল-মান্দেব পর্যন্ত।
দু’দিন ধরে নতুন করে কোনো মার্কিন হামলা না হলেও, হোয়াইট হাউজের আভাস, ইরানে নতুন হামলা চালানোর বিষয়টি বিবেচনাধীন। হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে এবং ভেস্তে যাওয়া অস্ত্রবিরতি চুক্তির শর্ত মানতে তেহরানকে চাপ দিচ্ছে ওয়াশিংটন। এরই ধারাবাহিকতায় ইরানে তীব্র আঘাত হানার হুমকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। গতকাল (শুক্রবার, ৩১ জুলাই) মেরিল্যান্ডের ক্যাম্প ডেভিডে মন্ত্রিসভার বৈঠকে জানান, যেকোনো মূল্যে শুধু যুদ্ধ জয় করতে চান তিনি। ইরানের অস্ত্র সক্ষমতা কমছে বলেও দাবি তার।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা আঘাত হানবো। এত জোরদার আঘাত করবো ওদের যে এক সময়ে গিয়ে তারা বলতে বাধ্য হবে আর সহ্য করা যাচ্ছে না। তাদের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত প্রায় শেষ, কিছু বাকি আছে। তাও চার-পাঁচ মাস আগের তুলনায় অনেক কম। তাদের উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় শেষ। ড্রোন তৈরির ক্ষমতাও প্রায় শেষ।’
আরও পড়ুন:
ইরানের আধাসরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমের খবর, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্য জ্বালানি অবকাঠামো হলে উপযুক্ত জবাব দিতে কার্যকর পরিকল্পনা রয়েছে তেহরানের। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্সের খবর, হরমুজ প্রণালিতে অবরোধে বিশ্ব অর্থনীতি আর মার্কিন ভোটাররাই ভুগবে বলে সতর্ক করেছে ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল।
এদিকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ আটকে দেয়ার খবরে বিশ্ববাজারে এক শতাংশের বেশি বেড়েছে জ্বালানি তেলের দাম। চলতি মাসে এ হার প্রায় ২৩ শতাংশ এবং এবছর আরও বাড়বে, বলছেন বিশ্লেষকরা।
এর আগে হরমুজ থেকে বের হওয়ার পথে দু’টি বড় তেলের ট্যাঙ্কারকে আটকে দেয়া এবং চারটিকে ফিরিয়ে দেয়ার কথা জানায় ইরানের অভিজাত সশস্ত্র বাহিনী আইআরজিসি।
এছাড়া ওমানের উত্তরপূর্বে একটি ট্যাঙ্কারে হামলা হয়েছে। আটটি সৌদি জাহাজকে পথ পরিবর্তনে বাধ্য করার খবর জানিয়েছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। পাঁচ মাস ধরে চলা সংঘাতে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বেশিরভাগ জাহাজ চলাচল বন্ধ করে রেখেছে ইরান। পাশাপাশি, সুয়েজ খাল থেকে লোহিত সাগরের আরেক প্রান্তে অবস্থিত সৌদি আরবের অপরিশোধিত তেল রপ্তানির আরেকটি পথ- বাব আল-মানদেব বন্ধেরও হুমকি দিচ্ছে হুতিরা।
এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক সমুদ্রবাণিজ্য ঝুঁকিমুক্ত করতে বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠনের পরিকল্পনা করছে সৌদি আরব। প্রস্তাবিত জোটের বিষয়ে গেলো সপ্তাহে আলোচনায় অংশ নেয় ৪৩টি দেশ ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা। পাকিস্তান-তুরস্ক-মিশরসহ ১৪টি দেশ প্রস্তাবে সমর্থন জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে। পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে প্রস্তাবে সমর্থন দেয়নি ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।




