ইরানের তেল রপ্তানিতে ১৯৬০-এর দশক থেকে মুখ্য ভূমিকা পালন করে আসছে খারগ দ্বীপ। দ্বীপের পূর্বদিকে একটি এবং পশ্চিমদিকে আরেকটি ঘাট রয়েছে। ১৯৫৫ সালে একটি তেল কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের পর খারগ দ্বীপে অপরিশোধিত তেল সংরক্ষণ ট্যাংক নির্মাণের প্রকল্প শুরু হয়। তেলের গুণগতমান পরীক্ষার জন্য দ্বীপটিতে বিশ্বসেরা একটি ল্যাবরেটরিও রয়েছে। ৮ হাজার বাসিন্দার এ দ্বীপে তেল ও সমুদ্র বিষয় নিয়ে পড়াশোনার জন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয়ও রয়েছে।
এখন এ দ্বীপের দিকে নজর পড়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের। এ দ্বীপ দখল করে ইরানের তেল রপ্তানিতে ধস নামাতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি মূল ভূখণ্ড থেকে মাত্র ২৪ কিমি দূরে অবস্থিত ছোট এ দ্বীপটিতে একটি ঘাঁটি করার পরিকল্পনাও আছে ট্রাম্প প্রশাসনের।
আরও পড়ুন:
খারগ দ্বীপ ইরানের অর্থনীতির প্রাণভোমরা হিসেবে পরিচিত। শুধু তাই নয় ইরানের যুদ্ধ পরিচালনার বড় একটি অংশ আসে দ্বীপের তেল রপ্তানি থেকে। মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনার মধ্যে খারগ দ্বীপ ক্রমেই আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে।
ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল এখান থেকেই রপ্তানি হয়। মূল ভূখণ্ড থেকে পাইপলাইনে তেল এসে জমা হয় এ দ্বীপে, তারপর বিশাল ট্যাংকারে করে পাড়ি জমায় আন্তর্জাতিক বাজারে বিশেষ করে চীনে।
ট্রাম্পের দাবি, দ্বীপটির সামরিক স্থাপনা এরই মধ্যে ধ্বংস করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এটি দখলে খুব একটা বেগ পেতে হবে না মার্কিন বাহিনীকে। কারণ দ্বীপের সুরক্ষায় ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা খুব দুর্বল বলেও দাবি করেন ট্রাম্প। তিনি আরও জানান, বৈশ্বিক জ্বালানি খাতকে সুরক্ষিত রাখতে দ্বীপের তেলের অবকাঠামোতে হামলা চালায়নি যুক্তরাষ্ট্র।
আরও পড়ুন:
এর আগেও খারগ দ্বীপ বেশ কয়েকবার হামলার শিকার হয়েছে। তবে সেসব হামলায়ও জ্বালানি তেলের অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, খারগ দ্বীপের জ্বালানি স্থাপনা ধ্বংস হলে বৈশ্বিক তেলের বাজারে বিরূপ প্রভাব পড়বে।
এদিকে ইরানের সামরিক বাহিনী সতর্ক করেছে যে, তাদের জ্বালানি স্থাপনাতে হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস করা হবে।
ইরান এরই মধ্যে দ্বীপটিতে প্রতিরক্ষা জোরদার করেছে—মোতায়েন করেছে অতিরিক্ত সেনা, ক্ষেপণাস্ত্র এবং নৌ-মাইন। যেকোনো মার্কিন হামলা বড় ধরনের যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
খারগ দ্বীপ ঘিরে যেকোনো সিদ্ধান্ত শুধু দুই দেশের নয়, প্রভাব ফেলতে পারে পুরো বিশ্বের জ্বালানি বাজার ও নিরাপত্তায়।





