দুই বছরের বেশি সময় ধরে গাজায় ইসরাইলি নৃশংসতার পর গেল ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপ শুরু হয়। যদিও তা লঙ্ঘন করে হামলা চালিয়ে যায় ইসরাইলিরা। শুধু তাই নয়, শর্ত অনুযায়ী মানবিক সহায়তার ট্রাকও পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রবেশ করতে দেয়নি তারা। প্রথম ধাপে সব জিম্মিদের মুক্তির শর্ত থাকলেও এখনো এক জিম্মির মরদেহ ফেরত দেয়নি হামাস।
এমন অবস্থায় গেল বুধবার গাজায় শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ শুরুর ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্র। ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ জানান, এ ধাপে হামাসকে নিরস্ত্রীকরণ, অন্তর্বর্তী প্রশাসন গঠন এবং গাজা পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেয়া হবে।
গাজা উপত্যকায় শান্তি প্রতিষ্ঠার দ্বিতীয় পর্যায় শুরুর পরও গেল একদিনে ১০ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরাইলি বাহিনী। আইডিএফের দাবি, তাদের বোমা হামলায় নিহতদের মধ্যে হামাসের সশস্ত্র শাখার এক কমান্ডার রয়েছে। যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর শতাধিক শিশুসহ অন্তত ৪৫১ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরাইলিরা।
এমন অবস্থায় গাজায় নবনিযুক্ত ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটিক সরকারকে সমর্থন জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গাজার অন্তর্বর্তী প্রশাসনের জন্য গঠিত বোর্ড অব পিসের চেয়ারম্যান হিসেবে ট্রাম্প জানান, গাজায় শান্তিপূর্ণ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে এ বোর্ড।
গাজা উপত্যকার জন্য একটি উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার কথা জানান বোর্ড অব পিসের সদস্য সাবেক ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা আলী শাথে। তিনি জানান, যুদ্ধের ধ্বংসাবশেষ ভূমধ্যসাগরে ফেলে দিয়ে তিন বছরের মধ্যে গাজার অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ করা হবে।
আরও পড়ুন:
বোর্ড অব পিসের সদস্য আল শাথে বলেন, ‘প্রথমে অবকাঠামো পুনর্গঠন দিয়ে কাজ শুরু হবে। তারপর বাসিন্দাদের উপযুক্ত আশ্রয় ও জীবিকা প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। যার মধ্যে রয়েছে খাদ্য, পানি, স্বাস্থ্যসেবা শিল্প ব্যবস্থা। আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে ফিলিস্তিনিদের বসবাসযোগ্য বাসস্থান গড়ে তোলা হবে।’
জাতিসংঘ সনদের প্রতি আনুগত্য, বিশ্ব শান্তি ও ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচির আন্তোনিও গুতেরেস। গাজায় মার্কিন সমর্থিত যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপের সূচনাকে স্বাগতও জানান তিনি।
আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে ঘোষিত গাজায় যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপের সূচনাকে স্বাগত। তবে মানবিক সহায়তা বাধাহীনভাবে প্রবাহিত হতে হবে, যুদ্ধবিরতি সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়িত হতে হবে এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে দ্বি-রাষ্ট্রীয় সমাধানের পথও পরিষ্কার করতে হবে।’
এদিকে যুদ্ধবিরতি শর্তপূরণ ও বাস্তবায়ন নিয়ে এখনো সন্দিহান গাজাবাসী। হতাশা ও সংশয় নিয়ে তারা জানান, এ মুহূর্তে তাদের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘কিসের দ্বিতীয় ধাপ। ইসরাইলিরা তো প্রথম ধাপই মানেনি। দ্বিতীয় পর্যায় কীভাবে শুরু করবে? তাদের হামলা তো বন্ধ নেই।’
অন্য একজন বলেন, ‘এগুলো সব মিথ্যা দাবি। কিছুই পরিবর্তন হবে না গাজার। গাজাবাসীর যা প্রয়োজন তার কিছু দিচ্ছে না তারা।’
ইসরাইলি হামলায় গাজায় এখন পর্যন্ত প্রাণহানি প্রায় সাড়ে ৭১ হাজার। তীব্র শীতের মধ্যে ২০ লাখ ফিলিস্তিনি আশ্রয় শিবির ও ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে বেঁচে থাকার জন্য লড়াই করে যাচ্ছে।





