ইসরাইলি জিম্মিদের মুক্তি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করায় শঙ্কার মুখে ছিল ৪২ দিনের যুদ্ধবিরতি। তবে হামাস নিজেদের অবস্থান থেকে সরে আসায় অবশেষে মিলল স্বস্তি। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠনটির দাবি, চুক্তি ভেস্তে দেয়ার কোনো উদ্দেশ্য নেই তাদের।
বৃহস্পতিবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে হামাস জানায়, স্বাক্ষরিত চুক্তি অনুযায়ী শনিবার নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে বন্দী বিনিময়। এসময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর আক্রমণাত্মক বক্তব্যের নিন্দা জানানো হয়।
যদিও হুমকি অব্যাহত রেখে ইসরাইলি সরকারের মুখপাত্র জানান, ৬ষ্ঠ ধাপের বিনিময়ে তিন জিম্মিকে মুক্তি না দিলে গাজায় আবারো শুরু হবে যুদ্ধ। অন্যদিকে তেল আবিব হামলা শুরু করলে পাল্টা হামলা চালানোর ঘোষণা দিয়েছে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি।
হুতি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নেতা আব্দুল মালিক আল হুতি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যদি এবার গাজায় হামলা চালায়, আমরা আর চুপ করে বসে থাকবো না। গাজাবাসীকে নিজ ভূখণ্ড থেকে স্থানান্তর করা পশ্চিমাদের জন্য আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হবে। কারণ এবার সর্বশক্তি দিয়ে আক্রমণ করা হবে।’
যুদ্ধবিরতি অব্যাহত থাকলেও শঙ্কার মুখে গাজাবাসীর ভবিষ্যৎ। উপত্যকা থেকে ফিলিস্তিনিদের স্থানান্তরের কার্যক্রমে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাব বাস্তবায়নে মিশরকে চাপ দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ইসরাইলি গণমাধ্যম কান এর তথ্য বলছে, পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অস্বীকৃতি জানানোয় কায়রোর সামরিক সহায়তা বন্ধের হুমকি দেয়া হয়েছে।
চাপ সত্ত্বেও এখন পর্যন্ত আব্দেল ফাত্তাহ আল সিসি সরকার ট্রাম্পের প্রস্তাবে সবুজ সংকেত দেয়নি। ২০ লাখের বেশি গাজাবাসীকে উপত্যকা থেকে বিতাড়িতের প্রস্তাবকে অত্যন্ত বিপজ্জনক পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট।
যুদ্ধবিরতির মাঝে গাজার উত্তরে ফিরছেন ফিলিস্তিনিরা। ধ্বংসস্তূপের মাঝেই গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন নতুন জীবন। উপত্যকা জুড়ে পাঠানো হচ্ছে ট্রাক ভর্তি ত্রাণ।
এদিকে জিম্মি বিনিময় ভেস্তে যাবার শঙ্কায় তেল আবিব হাইওয়ে দখল করেছেন সাধারণ ইসরাইলিরা। চুক্তি কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত সড়ক আটকে রাখার ঘোষণা দিয়েছেন জিম্মিদের স্বজনেরা।