ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার জন্য রাশিয়ার পাশে দাঁড়িয়ে সহায়তা অব্যাহত রেখেছেন পুতিনের মিত্র উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। সেনা পাঠানোর পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ কামান, ক্ষেপণাস্ত্রসহ সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করে যাচ্ছে দেশটি। ২০২৪ সালে রাশিয়ায় ১৪ হাজার সেনা পাঠায় উত্তর কোরিয়া। যাদের মধ্যে ৬ হাজারের বেশি সেনা এরইমধ্যে যুদ্ধে নিহত হয়েছে।
সেনাদের এ আত্মত্যাগ মহিমান্বিত করে রাখতে নানা উদ্যোগ নিয়েছেন কিম জং উন। তাদের স্মরণে পিয়ংইয়ংয়ে উন্মোচন করা হয়েছে নতুন একটি স্মারক কমপ্লেক্স। যেখানে সাজানো আছে যুদ্ধাহত সেনাদের ভাস্কর্য। যদিও বিশ্লেষকরা বলছেন, সম্ভাব্য জনঅসন্তোষ ঠেকাতেই এ ধরনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন কিম।
আরও পড়ুন:
এবার রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত সেনাদের পরিবারের জন্য নতুন একটি আবাসন অঞ্চল গড়ে তুলেছে উত্তর কোরিয়া। আবাসন প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মেয়ে কিম জু আয়েকে নিয়ে উপস্থিত হন দেশটির নেতা কিম জং উন। অশ্রুসিক্ত চোখে উদ্বোধনী ভাষণে নিহত সেনাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি শোক জানান তিনি। কিমের বক্তব্য শুনে উপস্থিত অনেকেই তখন কান্নায় ভেঙে পড়েন।
কিম কিম জং উন ভাষণে বলেন, ‘নতুন এ আবাসিক অঞ্চলটি নিহত সেনাদের আত্মত্যাগের প্রতীক। এসব বাড়ি নির্মাণের অন্যতম লক্ষ্য হলো পিতৃহারা শোকাহত পরিবারগুলো যেন সম্মানের সঙ্গে জীবনযাপন করতে পারে। আর এ আবাসিক অঞ্চলটি নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রস্তুত করা হয়েছে।’
এরপর মেয়েকে নিয়ে সেনাদের পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন কিম জং উন। পরে নতুন নির্মিত বাড়িগুলো ঘুরে দেখেন বাবা ও মেয়ে। কিমের উত্তরসূরি হিসেবে তার কিশোরী মেয়ে কিম জু আয়েকে নিয়ে বাড়ছে জল্পনা-কল্পনা। কারণ প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানে নিয়মিত দেখা যাচ্ছে তাকে।
দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থার দাবি, রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধ করে ব্যাপক লাভবান হচ্ছে উত্তর কোরিয়ার সেনারা। কারণ যুদ্ধে অংশ নেয়ার বিনিময়ে রাশিয়ার কাছ থেকে আধুনিক সমরাস্ত্র ও প্রযুক্তিগত সহায়তা অর্জন করছে তারা।





