ইরানের সমর্থনে ইউরোপের কয়েকটি দেশে বিক্ষোভ

ইরান ইস্যুতে মিউনিখে ইরানিদের বিক্ষোভ
ইরান ইস্যুতে মিউনিখে ইরানিদের বিক্ষোভ | ছবি: এখন টিভি
0

ইরানে সাম্প্রতিক বিক্ষোভের সমর্থনে জার্মানির মিউনিখে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। লাখ লাখ মানুষের এই বিক্ষোভে দেশটির বর্তমান শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তনে স্লোগান দেন বিক্ষোভকারীরা। ইরানের নির্বাসিত নেতা রেজা পাহলভির সমর্থনে বিক্ষোভে উত্তাল কানাডার টরন্টো এবং যুক্তরাষ্ট্রের লস এঞ্জেলস।

জার্মানির মিউনিখে নিরাপত্তা সম্মেলন ঘিরে কয়েকদিন ধরেই উত্তাল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। ইরানে সাম্প্রতিক ব্যাপক বিক্ষোভের সমর্থনে প্রতিদিনই সড়কে নেমে বিক্ষোভ করছেন মানুষ। যাদের মধ্যে বিদেশে থাকা ইরানি নাগরিকের সংখ্যাই বেশি।

প্রবাসী ইরানিরা বলেন, ‘আমরা ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে এখানে জড়ো হয়েছি। আমরা চাই রেজা পেহেলভি ফিরে আসুক। আর সবাই জানি পরিস্থিতি অনেক খারাপ। প্রায় ৪০ হাজার মানুষ মারা গেছেন। এ সরকারের পরিবর্তন চাই।’

গতকাল (শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারি) মিউনিখের রাস্তায় নেমে আসেন লাখ লাখ মানুষ। প্রায় আড়াই লাখ মানুষের এ বিক্ষোভকে শহরের সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ বলছে পুলিশ। সমাবেশে উপস্থিত হন ইরানের নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভি। ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে আসা বিক্ষোভকারীরা তাকে সমর্থন দেন।

আরও পড়ুন:

ইরানের সরকারবিরোধী এ বিক্ষোভে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন সিনেটর লিন্ডসি গ্রাহাম। ইরানের দায়িত্ব দেশের জনগণকেই নিতে হবে বলে বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশ্যে বলেন তিনি।

মার্কিন সিনেটর লিন্ডসি গ্রাহাম বলেন, ‘আয়াতুল্লাহর বিদায়ের সময় হয়েছে। আমি ইরানের জনগণকে বেছে নিয়েছি। ইরানকে মহান করতে তাদেরই দেশের দায়িত্ব নিতে হবে। সহযোগিতা আসছে।’

এদিকে ইরানে বিক্ষোভের সমর্থন আর বর্তমান শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের লস এঞ্জেলসে সড়কে নেমে আসেন প্রায় সাড়ে তিন লাখ মানুষ। এসময় তারা অভিযোগ করেন, ইরানিদের ওপর অবিচার করছে খামেনির সরকার।

একজন ইরানি বলেন, ‘সেখানে পরিস্থিতি খুব খারাপ। সাধারণ মানুষের ওপর অন্যায় হচ্ছে, তাই আমরা প্রতিবাদ করতে এসেছি।’

বিক্ষোভ হয়েছে কানাডার টরেন্টোতেও। মিছিলে তারা ইরানের সরকার পরিবর্তনের স্লোগান দেয়। কানাডায় বসবাসকারী এক ইরানি জানান, তারা মৌলিক অধিকারের লড়াই করছে। কিন্তু যখনই বিক্ষোভ হয় তখন বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়।

অন্য একজন বলেন, ‘ইরানের জনগণ শুধু তাদের মৌলিক অধিকার চায়। কিন্তু যতবারই প্রতিবাদ হয়েছে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। তাই বাঁচার জন্য আমাকে ইরান ছাড়তে হয়েছে।’

ইরানের বিক্ষোভের সঙ্গে সংহতি জানাতে বিশ্বের অন্যান্য শহরের মতো লন্ডনেও সমাবেশ করেন প্রায় ৫০ হাজার বিক্ষোভকারী।

জেআর