মৃত্যুর ২ বছর পর ফের আলোচনায় রাশিয়ার বিরোধী দলীয় নেতা আলেক্সেই নাভালনি। রুশ মসনদে পুতিনের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিশ্বে পরিচিত ছিলেন এই দুর্নীতিবিরোধী নেতা। তার ঝাঁঝালো বক্তব্য কম্পন সৃষ্টি করতো পুতিনের সাম্রাজ্যে।
রুশ সংস্কার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলা নাভালনিকে ২০২১ সালে আটক করে রুশ পুলিশ। এরপর কারাগারের চার দেয়ালে কয়েক বছরের বন্দি জীবন শেষে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে রহস্যজনক মৃত্যু হয় তার। নাভানলির মারা যাওয়া স্বাভাবিক বলে রুশ কারা কর্তৃপক্ষ দাবি করলেও, শুরু থেকেই তাকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ করে আসছিলেন নাভালিনির স্ত্রী।
এবার রুশ বিরোধী নেতার মৃত্যু নিয়ে চাঞ্চল্যকর বিবৃতি প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্য, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডস। নাভালনির দেহ থেকে পাওয়া নমুনা বিশ্লেষণ করে দেশগুলোর অভিযোগ, এপিবাটিডিন নামে একটি বিষ প্রয়োগের ফলে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন নাভালনি। এই প্রাণঘাতী বিষটি রাশিয়া নয়, দক্ষিণ আমেরিকার ব্যাঙের শরীরে পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন:
এছাড়া, নাভালনির মৃত্যু নিয়ে জার্মানির মিউনিখে কথা বলেছে ফ্রান্স ও ব্রিটেনের নেতারা। তারা নাভালনির মৃত্যুর জন্য পুতিনকে দায়ী করেন।
ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিন নোয়েল ব্যারোট বলেন, নাভানির মৃত্যুর ২ বছর পর ফ্রান্সসহ আমরা পাঁচটি দেশ প্রমাণ করতে পেরেছি নাভানিকে বিষপ্রয়োগ করে মারা হয়েছিল। আমরা ল্যাবে বিষদ পরীক্ষা- নিরীক্ষার মাধ্যমে এটি নিশ্চিত করেছি। তাই রাশিয়া যতই মিথ্যাচার করুক, নাভালনির মৃত্যুর জন্য পুতিন দায়ী। এটি আরও প্রমাণ করে রাশিয়া বিরোধী মত ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী নয়।
একই অভিযোগ ব্রিটিশ পররাষ্ট্র সচিব ইভেট কুপারের।
ব্রিটেনের পররাষ্ট্র সচিব ইভেট কুপার বলেন, এটা প্রমাণ করে যে রাশিয়া তাদের দেশের জনগণ ও বিরোধীদের চুপ করাতে কতটা বর্বর হতে পারে। আমরা কখনই নাভালনির কথাগুলোর ভুলব না। তার পদক্ষেপ পুতিন প্রশাসনের ভয়ের কারণ ছিল। তবে আমরা নাভালনির দেখানো পথে সত্য বলে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
যদিও বিষয়টি নিয়ে এখনও মুখ খুলেনি ক্রেমলিন। তবে এর আগে দেয়া একাধিক বক্তব্যে রাশিয়া দাবি করে, কারাগারে অসুস্থ হয়েই মারা যান নাভালনি।





