দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের সবচেয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘাত ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ। পঞ্চম বছরে গড়ানোর পথে সংঘর্ষ। কিন্তু এখনও কমেনি সহিংসতার তীব্রতা।
গতকাল স্থানীয় সময় (বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি) রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, ২৪ ঘণ্টায় ইউক্রেনের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে বহুমুখী হামলার কথা। একইদিন ইউক্রেনও দাবি করে বিভিন্ন অঞ্চলে রাশিয়ার হামলার চেষ্টা প্রতিহত এবং প্রায় ১ হাজার ৪০০ ড্রোন ভূপাতিত করার।
যুদ্ধক্ষেত্রে এমন সহিংস পরিস্থিতির মধ্যেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায়, পর্দা নেমেছে সংঘাতরত দুই দেশের দুই দিনের শান্তি আলোচনায়। ১৫৭ জন করে মোট ৩১৪ জন বন্দিবিনিময়ে দুই পক্ষ সম্মত হলেও, অমীমাংসিতই থেকে গেছে সংঘাতের মূল কারণগুলো। এরইমধ্যে নিজ নিজ দেশে ফিরেছেন অনেক বন্দি। প্রিয়জনদের কাছে পেয়ে সীমান্তে তৈরি হয় আবেগঘন মুহূর্ত।
বন্দিদের মধ্যে একজন জানান, ‘যারা এ বন্দি বিনিময়ে কাজ করেছেন তাদের সবাইকে ধন্যবাদ, হ্যাঁ মা, সব কিছু ঠিক আছে।’
আরও পড়ুন:
যুদ্ধবন্ধের আশার আলো আরও ফিকে হলেও, চেষ্টা জারি রাখার আশ্বাস সব পক্ষের। পরবর্তী ধাপে আলোচনা হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রেই, জানান ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট।
ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, ‘একটি দীর্ঘমেয়াদে শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য কাজ করতে আমরা প্রস্তুত। পরবর্তী বৈঠক যুক্তরাষ্ট্রে হতে পারে। হয়তো যুদ্ধের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবে রাশিয়া। প্রকৃত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সবেচেয় গুরুত্বপূর্ণ।’
এদিকে, চার বছরে প্রথমবার শীর্ষ পর্যায়ের সামরিক আলোচনার বিষয়ে সবুজ সংকেত দিয়েছে রাশিয়া ও মধ্যস্থতাকারী যুক্তরাষ্ট্র। ২০২২ সালে ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ সামরিক অভিযানের আগে মস্কো-ওয়াশিংটন উত্তেজনা তুঙ্গে ওঠায় ২০২১ সালে স্থগিত হয় আলোচনা। এখানেই শেষ নয়, রাশিয়ার সঙ্গে নতুন পরমাণু চুক্তিও চান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন ল্যাভিট বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট এমন এক পারমাণবিক চুক্তি চান যা উন্নত,আধুনিক এবং দীর্ঘমেয়াদী হবে। এ বিষয়েই রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।’
মেয়াদ শেষ হওয়ার পথে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি। পুরোনো চুক্তিটির বদলে চীনকে অন্তর্ভুক্ত করে আরও আধুনিক চুক্তি চান ট্রাম্প; যা বাস্তবায়ন হলে বিশ্ব নেতৃত্বে পুরোপুরি উল্টে যেতে পারে সবচেয়ে বড় পরমাণু শক্তিধর দেশগুলোর কয়েক দশকের বন্দোবস্ত।





