এপস্টেইন ফাইলস নিয়ে তোলপাড় বিশ্ব রাজনীতি। যার ছোঁয়া লেগেছে যুক্তরাজ্যেও। শুধু ছোঁয়া নয়, বরং ব্রিটিশ রাজপরিবার থেকে শুরু করে সংসদ পর্যন্ত নাড়িয়ে দিচ্ছে এপস্টেইন ফাইলস কেলেঙ্কারি। ৩০ লাখেরও বেশি নথি প্রকাশের পর থেকে যুক্তরাজ্যের তিনজন প্রভাবশালী ব্যক্তি সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রু, তাঁর প্রাক্তন স্ত্রী সারা ফার্গুসন এবং সাবেক রাষ্ট্রদূত পিটার ম্যান্ডেলসনের সঙ্গে জেফ্রি এপস্টেইনের সম্পৃক্ততায় তোলপাড় এখন ব্রিটিশ রাজনীতিও।
যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর যদিও দাবি করেন ২০০৮ সালে জেফ্রি এপস্টেইন যৌন নিপীড়নের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর ২০১০ সালেই তিনি তার সঙ্গে সব সম্পর্ক ছিন্ন করেন। অবশ্য পরে প্রকাশিত ইমেইলগুলো সে দাবিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। যেখানে দেখা যায়, ২০১১ সালে তিনি আবার এপস্টেইনের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাজা চার্লস তৃতীয় ভাই অ্যান্ড্রুর রাজকীয় উপাধি প্রত্যাহার করেন।
সাম্প্রতিক এপস্টেইন নথিতে অ্যান্ড্রুকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে প্রকাশিত তিনটি তারিখবিহীন ছবিতে তাকে মেঝেতে শুয়ে থাকা এক নারী বা কিশোরীর ওপর ঝুঁকে থাকতে দেখা যায়। যদিও ছবিগুলোর সময়, স্থান বা প্রেক্ষাপট স্পষ্ট নয়।
পাশাপাশি, ভার্জিনিয়া জিউফ্রে নামে এক নারী ইতোমধ্যেই অভিযোগ করেছেন, যে ১৭ বছর বয়সে অ্যান্ড্রু তাকে যৌন নির্যাতন করেছিলেন। এসব প্রকাশের পর যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার তাঁকে মার্কিন কংগ্রেসে সাক্ষ্য দিতে আহ্বান জানিয়েছেন। তবে রাজপরিবার এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।
আরও পড়ুন:
অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসরের প্রাক্তন স্ত্রী সারা ফার্গুসন এবারের এপস্টেইন ফাইলস-এ একাধিকবার উঠে এসেছেন। ২০০৯, ২০১০ সালের বিভিন্ন ইমেইলে সারা ফার্গুসন এপস্টেইনকে আবেগপূর্ণভাবে ধন্যবাদ জানানো বা প্রশংসাও করেন।
ইমেইলগুলো আরও ইঙ্গিত দেয়, যে এপস্টেইন নিজের সুনাম রক্ষায় সারা ফার্গুসনকে ব্যবহার করতে চেয়েছিলেন। এছাড়াও এপস্টেইন সারা ফার্গুসনকে নানা সময়ে মোটা অংকের টাকাও পাঠিয়েছিলেন। এসব প্রকাশের পর গেল সোমবার তার দাতব্য সংস্থা ‘সারাহ’স ট্রাস্ট’ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
এদিকে এপস্টেইনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের জেরে গেল সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূতের পদ থেকে অপসারিত হন যুক্তরাজ্যের আরেক প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব পিটার ম্যান্ডেলসন। সদ্য প্রকাশিত নথিতে দেখা যায়, তিনি এপস্টেইনকে সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু বলে উল্লেখ করেছিলেন।
২০০৯ সালে ব্যবসা সচিব থাকাকালে যুক্তরাজ্য সরকারের সংবেদনশীল কর ও সম্পদ বিক্রয় সংক্রান্ত গোপন নথি এপস্টেইনের কাছে ফাঁস করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পিটার ম্যান্ডেলসনের ওপর হাউস অব লর্ডস থেকে সরে দাঁড়ানোর চাপ বাড়ছে। লেবার পার্টি থেকে পদত্যাগ করেছেন ইতোমধ্যেই।





