ট্রাম্পের শুল্ক নীতিতে ঘনীভূত গ্রিনল্যান্ড সংকট

গ্রিনল্যান্ড
গ্রিনল্যান্ড | ছবি: সংগৃহীত
1

ট্রাম্পের শুল্ক আরোপিত নীতিতে দ্রুত মারাত্মক রূপ নিতে পারে গ্রিনল্যান্ড সংকট। বলা হচ্ছে, উচ্চ আমদানি মূল্যের প্রভাবে দুর্বলতম অবস্থানে চলে যেতে পারে দু'দিকের অর্থনীতিই। বেলজিয়ামের ইউরোপিয়ান পলিসি সেন্টারে বিশ্লেষক জুরাজ মাজকিন বলেন, ‘গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্টদের ওপরই প্রথম আঘাত আসবে।’

মার্কিন ভূখণ্ড থেকে প্রায় পাঁচ হাজার কিলোমিটার দূরে, বিশ্বের সবচেয়ে বড় দ্বীপটির দখল নিতে এবার শুল্কারোপের পথ বেছে নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। পহেলা ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বৈদেশিক বাণিজ্যে ১০ শতাংশ শুল্ক গুণতে হবে ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, সুইডেন এবং যুক্তরাজ্যকে। এরপরও কোনও সমঝোতায় না পৌঁছালে আগামী পহেলা জুন নাগাদ শুল্ক বেড়ে দাঁড়াবে ২৫ শতাংশে।

এমন পরিস্থিতিতে জরুরি বৈঠকে, ইউরোপীয় ইউনিয়নকে বলপ্রয়োগ-বিরোধী হাতিয়ার হিসেবে ২০২৩ সালে গৃহীত ‘ট্রেড বাজুকা’ সক্রিয় করার আহ্বান জানান ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। বলা হয়েছে, এ কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে ইউরোপের বাজারে খর্ব হতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রবেশাধিকার; আছে রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আরোপসহ সম্ভাব্য পাল্টা ব্যবস্থার দীর্ঘ তালিকা।

আরও পড়ুন:

তবে বেলজিয়ামের ইউরোপিয়ান পলিসি সেন্টারে বিশ্লেষক জুরাজ মাজকিন বলেন, বলপ্রয়োগ-বিরোধী ব্যবস্থা হলো ইউরোপীয় ইউনিয়নের এক ধরনের হাতিয়ার। জোট বা জোটের সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে তৃতীয় কোনও দেশ অর্থনৈতিকভাবে চাপ দিয়ে রাজনৈতিক পরিবর্তনে বাধ্য করার চেষ্টা করলে তখন এই হাতিয়ার প্রয়োগ করা হয়।

আরও পড়ুন:

গত বছর জুলাইয়ে ইইউ ও যুক্তরাষ্ট্র অস্থায়ী বাণিজ্যের বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছালে পিছিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পূর্বঘোষিত নয় হাজার ৩০০ কোটি ইউরোর প্রতিশোধমূলক শুল্কারোপের সিদ্ধান্ত। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য, এবার এই মোটা অঙ্কের শুল্কারোপের দিকে এগোচ্ছে ইউরোপীয় জোট। বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্ধিত শুল্কের প্রভাবে এ বছর মোট অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির এক-চতুর্থাংশ হারাতে পারে ইউরোপ।

বেলজিয়ামের ইউরোপিয়ান পলিসি সেন্টারে বিশ্লেষক জুরাজ মাজকিন আরও বলেন, ‘ট্রাম্প প্রশাসনের খুব ঘনিষ্ঠ মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্টদের কার্যক্রম সীমিত করে দিতে পারে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এর মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে একটি শক্তিশালী বার্তা দেবে ইইউ জোট। আমার মনে হয়, এতে করে মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্টদের ওপরই প্রথম আঘাত আসবে।’

অবশ্য ১০ শতাংশ শুল্কারোপের তাৎক্ষণিক প্রভাবে মার্কিন অর্থনীতি ততটা ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, যতোটা দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদারদের সাথে সম্পর্কের টানাপোড়েনের ফলে হবে। মার্কিন জনশুমারি ব্যুরোর তথ্য, ২০২৪ সালে জার্মানির সাথে ২৩ হাজার ৬০০ কোটি ডলার, যুক্তরাজ্যের সাথে ১৪ হাজার ৭৭০ কোটি ডলার, নেদারল্যান্ডসের সাথে ১২ হাজার ২২৭ কোটি ডলার, ফ্রান্সের সাথে ১০ হাজার ৩০০ কোটি এবং সুইডেন, নরওয়ে ও ফিনল্যান্ডের সঙ্গে আরও কয়েক কোটি ডলারের বাণিজ্য করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

জেআর