চিঠিতে তিনি আরও লেখেন, গ্রিনল্যান্ডের ওপর আমাদের সম্পূর্ণ ও পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ না থাকলে বিশ্ব নিরাপদ নয়।
নোবেল শান্তি পুরস্কার নরওয়ে সরকার নয়, একটি স্বাধীন কমিটি দিয়ে থাকে। এ বিষয়ে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী স্টোর এক বিবৃতিতে বলেন, ‘নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে আমি ট্রাম্পকে বহুবার স্পষ্টভাবে জানিয়েছি এবং এটি সবাই জানে যে পুরস্কারটি নরওয়ে সরকার নয়, একটি স্বাধীন নোবেল কমিটি দেয়।’
হোয়াইট হাউসে মন্তব্য জানতে পাঠানো অনুরোধে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
সম্প্রতি গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ না পেলে ন্যাটোভুক্ত কয়েকটি ইউরোপীয় দেশের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়ে ন্যাটো মিত্রদের উদ্বিগ্ন করে তোলেন ট্রাম্প।
এ ঘটনায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নেতাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয় এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জোটের পক্ষ থেকে সবচেয়ে কঠোর প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান।
রোববার ইইউ রাষ্ট্রদূতেরা বৈঠকে বসে সম্ভাব্য পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেন। এর মধ্যে প্রায় ৯৩ বিলিয়ন ইউরো মূল্যের মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপের বিষয়ও ছিল। বৃহস্পতিবার জরুরি শীর্ষ সম্মেলনে বসার কথা রয়েছে ইইউ নেতাদের।
আরও পড়ুন:
সোমবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, ন্যাটো গত ২০ বছর ধরে ডেনমার্ককে বলে আসছে, গ্রিনল্যান্ড থেকে রুশ হুমকি দূর করতে হবে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে ডেনমার্ক কিছুই করতে পারেনি। এখন সময় এসেছে, এবং এটি করা হবেই!!!
ট্রাম্পের এই বক্তব্যের প্রতিধ্বনি শোনা গেছে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তার কণ্ঠেও।
রোববার এনবিসির ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেন, গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইউরোপ অত্যন্ত দুর্বল।
এদিকে, গত সপ্তাহে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মারিয়া কোরিনা মাচাদো নিজের পদক ট্রাম্পকে দেয়ার পর বিস্ময় প্রকাশ করে নরওয়ে। বহুদিন ধরেই এই পুরস্কার পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে আসা ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে এক বৈঠকে ভেনেজুয়েলার বিরোধী নেতার কাছ থেকে পদকটি গ্রহণ করেন।
আরও পড়ুন:
ট্রাম্প দাবি করেন, নিজের দ্বিতীয় মেয়াদে একাধিক যুদ্ধ নিষ্পত্তি করায় তিনি এই পুরস্কারের যোগ্য।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি জানায়, নোবেল পুরস্কার ও বিজয়ী অবিচ্ছেদ্য। পরবর্তীতে পদক বা সনদ অন্য কারো কাছে গেলেও এতে পুরস্কারপ্রাপ্ত ব্যক্তির পরিচয় পরিবর্তিত হয় না।
নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর কাছে ট্রাম্পের পাঠানো চিঠিটি প্রথমে এক পিবিএস সাংবাদিক এক্সে প্রকাশ করেন।
বিষয়টি সম্পর্কে অবগত ব্যক্তিদের বরাতে জানা গেছে, ব্যক্তিগত চিঠিপত্র নিয়ে আলোচনা করার শর্তে নাম প্রকাশ না করার অনুরোধে তারা জানান, ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ ওই চিঠিটি ইউরোপের আরও কয়েকটি সরকারের সঙ্গেও বিনিময় করেছে।
আরও পড়ুন:





