শনিবার সন্ধ্যায় উত্তর কলকাতার সারদা পার্ক এলাকার চোরবাগান দুর্গাপূজা মণ্ডপ হঠাৎ করেই হয়ে ওঠে প্রাণঘাতী। দুর্গাপূজার প্রতিমা দর্শনে গিয়ে ভয়াবহ পরিণতির সাক্ষী হলো গোটা পশ্চিমবঙ্গ। কলকাতায় দুর্গাপূজার ইতিহাসে এত ভয়াবহ এবং মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনা আগে ঘটেনি।
পূজাকে কেন্দ্র করে এত মানুষের মৃত্যুর পর নড়েচড়ে বসেছে রাজ্য সরকার। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ, পাল্টাপাল্টি অভিযোগ। মণ্ডপ বন্ধের পাশাপাশি ওই এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি করে আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত জনসমাগম নিষেধ করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে রাজ্য সরকার।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘যা যা গাইডলাইন দেয়া দরকার এ ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে, সেটা তারা করবেন। সেক্ষেত্রে কেউ হস্তক্ষেপ করবে না। আর কলকাতার ক্ষেত্রে অলরেডি টিম তৈরি করে দেয়া হয়েছে, দে আর ওয়ার্কিং।’
গোটা কলকাতাজুড়ে বইছে শোকের মাতম। ভয়াবহতা এখনো কাটিয়ে উঠতে পারেনি ভুক্তভোগী পরিবারগুলো। এমন করুণ মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না স্বজনরা।
আরও পড়ুন:
ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর মধ্যে একজন বলেন, ‘বৃষ্টি না হতো তো হতো না না? কন্টিনিউয়াস যদি ভিজতে থাকত তো হতো না এটা। বৃষ্টি হচ্ছিলো বলেই তো সব এখানে অনেকে ওখানে দাঁড়িয়ে ছিল, সব এখানে ভেতরে ঢুকে গেছিল। এখানে কোনো ভিড়তে চাইছিল না।’
মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনার জন্য স্থানীয়দের অনেকেই পূজা কমিটিকে দোষারোপ করছে। আয়োজন এবং নিরাপত্তায় গাফিলতির অভিযোগও তুলেছেন অনেকেই।
স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘আমি আমি ঢুকেছিলাম, আমার ওয়াইফকে নিয়ে আমি গিয়েছিলাম। আমি যখন বেরিয়েছি খানিকটা পৌঁছে গেছি, আমার ছেলে আমাকে ফোন করেছে যে, পাপা তুমি কোথায় আছো? বললাম, আমি মাকে নিয়ে খানিকটায় আছি। তখন বলল যে, তুমি আর মাঠ দিয়ে আসবে না বাবা, মাঠে একটা অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে। কারণ কী হয়েছে বল? বলল না, তুমি এখন শোনো না, পরে শোনো। এসো বাড়িতে এসো, আমি বলব। তখন এসে শুনলাম কয়েকজন নাকি আহত হয়েছে, স্পটও হয়ে গেছে নাকি, এইটুকু শুনেছি।’
যদিও দুর্ঘটনার ভয়াবহতাকে পাশে সরিয়ে রেখেই উৎসবমুখর বাঙালি ফের সপ্তমীর রাতে বেরিয়ে পড়েছেন মণ্ডপে মণ্ডপে ভিড় জমাতে।





