মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পাওয়ার দু’দিন না পেরোতেই ফের পুলিশি ধরপাকড়ের শিকার দুই শীর্ষ সিজেপি নেতা।
ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটি নাম বাদ পড়ার জেরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ইস্যুতে কিছুতেই থামতে রাজি নন ভারতের এই সংস্কারপন্থি তরুণরা। প্রশাসনের চোখরাঙানি আর কড়া নিরাপত্তা উপেক্ষা করেই মঙ্গলবার ফেরেন রাজধানীতে বিক্ষোভের কেন্দ্রস্থল যন্তর মন্তরে।
পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে, বেষ্টনী টপকে চলে যন্তর মন্তরে প্রবেশের চেষ্টা। এতে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন শান্তিভঙ্গের কারণ হবেন না শর্তে, রোববারই জামিনে ছাড়া পাওয়া সিজেপি’র প্রধান মুখপাত্র সৌরভ দাস এবং কেন্দ্রীয় মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা। তার ওপর সোমবার বিজ্ঞপ্তি জারি করে এলাকাটিতে যেকোনো ধরনের বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করে মোদি প্রশাসন। এমন পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার তাদের আটকের পর, এবার সারা দেশ যন্তর মন্তর হয়ে উঠবে বলে মন্তব্য সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপকের।
তিনি বলেন, ‘বিক্ষোভের জায়গা হিসেবে যন্তর মন্তরকে নিষিদ্ধ করার অর্থ হলো যে নরেন্দ্র মোদি ভয় পাচ্ছেন। নরেন্দ্র মোদি ভাবছেন যে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ নিষিদ্ধের মানে বিক্ষোভ থেমে যাবে। এমন কিছু নয়। এখন পুরো দেশ যন্তর মন্তর হয়ে উঠবে। নরেন্দ্র মোদির সমস্যা যন্তর মন্তর বা একটা এলাকা নিয়ে নয়। তার সমস্যা হলো বিক্ষোভ, এটা আমাদের বুঝতে হবে। একজন স্বৈরাচারের জন্য বিক্ষোভ সবসময় সমস্যা, বিক্ষোভের ধারণাটাই সমস্যা।’
আরও পড়ুন:
আটককৃত নেতাদের কোথায় নেয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। তবে আটক অন্যান্যদের সঙ্গে একটি পুলিশ বাস থেকে ইনস্টাগ্রাম লাইভে এসেছিলেন রাঙ্কা। বিক্ষোভের আগে দিল্লি পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির অনুমতি চান সিজেপি নেতারা। জবাব না পেলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাজপথে ফেরার হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
বিক্ষোভকারীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘তারা স্বেচ্ছাচারী বক্তব্য দিচ্ছে। বলছে যে বিক্ষোভের ১০ দিন আগে আবেদন করা উচিত ছিল। এরপর আমরা পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায় আসি। আনুষ্ঠানিক চিঠি দিয়েছি এই বলে যে দরকার হলে ১০ দিন সময় নিন, কিন্তু যন্তর মন্তরকে বিক্ষোভের এলাকা হিসেবে ফিরিয়ে দিতে হবে। এজন্য তাদের ২৪ ঘণ্টা সময় দিয়েছি। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জবাব না পেলে আবারও রাস্তায় নামতে বাধ্য হবো আমরা।’
অন্য একজন বলেন, ‘৫৫ হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে শহরে। নির্বিচারে মানুষকে তুলে নেয়া হচ্ছে, ফুটপাথ থেকে, হাসপাতালে যাওয়ার পথে। সংবাদকর্মীদের হয়রানি করা হচ্ছে। আইনজীবীদের হয়রানি করা হচ্ছে। অবৈধ ধরপাকড় চলছে। অবৈধভাবে আটকে রাখা হচ্ছে তাদের। বাসে তোলা হচ্ছে, পেটানো হচ্ছে। যা আগে সড়কে হতো, সেগুলো এখন বাসের ভেতরে, ডিটেনশন সেন্টারে ঘটছে।’
ডিটেনশন সেন্টারগুলোতে মঙ্গলবার ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন সিজেপি নেতারা।
এদিকে বিক্ষোভ দমনে যন্তর মন্তরকে আন্দোলনের এলাকা হিসেবে তালিকা থেকে সরিয়ে দেয়া, পথে পথে ব্যারিকেড দেয়া, মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা, নির্বিচার ধরপাকড়সহ মোদি প্রশাসনের নানা পদক্ষেপের বিষয়ে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত আর দিল্লি উচ্চ আদালতে শুনানি আজ।





