জ্বালানি সংকটে পাকিস্তান: সরকারি গাড়ির তেল বরাদ্দ ৫০% কমলো

সঙ্গে নেয়া হয়েছে আরও ব্যয় সংকোচনমূলক নীতি

পাকিস্তানে জ্বালানি সংকট
পাকিস্তানে জ্বালানি সংকট | ছবি: সংগৃহীত
0

জ্বালানি সাশ্রয়ে আগামী তিন মাস সরকারি যানবাহনের তেলের বরাদ্দ ৫০ শতাংশে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পাকিস্তান। একইসঙ্গে সরকারি সফর ও নৈশভোজে নিষেধাজ্ঞাসহ বেশকিছু ব্যয় সংকোচনমূলক নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। এদিকে জ্বালানি সংকট কাটাতে শেহবাজ শরীফ প্রশাসন ভর্তুকির ব্যবস্থা করলেও সুফল পাচ্ছে না পরিবহন চালকরা।

আমেশ গুল, পাকিস্তানের করাচি শহরে অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন তিনি। আগে দুমুঠো খেয়ে পড়ে পরিবার নিয়ে হাসিমুখে দিন কাটালেও; ইরান যুদ্ধের জেরে বিশ্বে জ্বালানি সংকটে নিত্যপণ্যের আকাশছোঁয়া দামের চাপে আমেশের দৈনন্দিন জীবন।

আমেশ গুল বলেন, ‘আটার দিকে তাকান—১০ কেজির এক বস্তার দাম এখন ১৫০০ রুপি। চিনি আর ডালের দামও বেড়েছে। এক কেজি মুরগির মাংস ৬০০ রুপিতে মিলছে। ছুটির দিন তা আরও বেড়ে যায়। আগে গরীব মানুষ সপ্তাহে একবার মাংস খেত, এখন মাসে মাত্র একবার খাচ্ছে।’

আমেশের মতো করাচি শহরে ভাড়ায় চালিত অন্যান্য আটোরিকশা চালকও হিমশিম খাচ্ছে দৈনন্দিন আয়-ব্যয়ের হিসেব মেলাতে। অবস্থা এতটাই বেগতিক রাস্তায় গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হলে তা মেরামতের ন্যূনতম অর্থও নেই তাদের পকেটে।

করাচির স্থানীয় একজন বলেন, ‘আগে জ্বালানির দাম কম ছিল। সবকিছুই সাধ্যের মধ্যে ছিল; এখন গ্যাসের দাম ১৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৪০০ টাকা হয়েছে। সবমিলিয়ে সংসার চালানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। এইমাত্র আমার রিকশাটা নষ্ট হয়ে গেল, কিন্তু মেরামতের অর্থ না থাকায় ঠেলে নিয়ে যাচ্ছি।’

আরও পড়ুন:

অন্য একজন বলেন, ‘মুদ্রাস্ফীতি আমাদের কাবু করে ফেলেছে। কিছু সময় মনে হয় রাস্তাতেই আত্মহত্যা করি। আমি এমন দুর্দশার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি, যা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। আজ সকালে নাস্তাও করিনি।’

পাকিস্তানে বাজারে পেট্রোল লিটারপ্রতি প্রায় ৩৮৫ রুপি, ডিজেল লিটারপ্রতি ৪১৫ রুপি দামে বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের চাপে পাকিস্তান সরকার দেশব্যাপী জ্বালানি ভর্তুকি প্রকল্প চালু করলেও, সহসাই কাটছে না সংকট। যে কারণে অস্থির জ্বালানি বাজারে কিছুটা স্থিতিশীলতা আনতে নতুন করে বেশকিছু ব্যয় সংকোচনমূলক নীতি গ্রহণ করেছে পাকিস্তান সরকার।

এর আওতায় আগামী তিন মাসের জন্য সরকারি যানবাহনের জ্বালানি বরাদ্দ ৫০ শতাংশে নামিয়ে আনা, সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফর ও নৈশভোজের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

এছাড়া শপিংমল স্থানীয় সময় রাত ৯টা, কমিউনিটি সেন্টার রাত ১০টায় ও রেস্তারাঁ রাত ১১টার মধ্যে বন্ধের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এমনকি দেশটির সব বিয়ের অনুষ্ঠানে সিঙ্গেল ডিশ অর্থাৎ অতিথের অ্যাপায়নে শুধু একটি খাবারের মেন্যু পরিবেশন করা হবে।

জ্বালানি সাশ্রয়ে চলতি বছরে দ্বিতীয়বারের মতো এমন সংকোচনমুখী নীতির পথে হাঁটলো শেহবাজ শরীফ প্রশাসন।

এসএস