নদী-নালা, খাল-বিলসহ প্রাকৃতিক জলাশয়গুলোতে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে মাছের উৎপাদন। অন্যদিকে দেশে মাছের চাহিদা পূরণ করতে বেড়েছে চাষের মাছের উৎপাদন। তুলনামূলক কম দামে অধিক পুষ্টিগুণের যোগান আসছে পাঙ্গাশ মাছ থেকে।
মাটি, পানি ও উপযুক্ত আবহাওয়া পাঙ্গাশের পোনা উৎপাদন হচ্ছে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায়। ভালো পোনা উৎপাদন করায় দেশের বাজারে প্রভাবশালী যোগানদাতা এখানকার পোনা উৎপাদনকারীরা। উৎপাদনের বাড়তি খরচ পুষিয়ে নিতে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বেঁচে যাওয়া পোনা বিদেশে রপ্তানি করতে চান উৎপাদনকারীরা।
পোনা চাষকারীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘আদমদীঘিতে বাংলাদেশের মধ্যে সবচাইতে শ্রেষ্ঠ ব্যবসা, মানে রেনুর প্রোডাকশন নিয়ে। কালচার অনেক জেলায় হয়, অনেকক্ষেত্রে হয়, কিন্তু পোনা সবক্ষেত্রে পাওয়া যায় না। তো এই পোনাটা যদি বাইরের দেশে যদি একটু পাঠানো যায়, তাহলে আমাগরে আদমদীঘিতে আরও অধিক পরিমাণই পোনা চাষ করা যাবে।’
আরও পড়ুন:
আদমদীঘিতে উৎপাদিত পাঙ্গাশের পোনার বেশ কদর রয়েছে ভারতে। বৈধভাবে পোনা রপ্তানির সুযোগ না থাকায় পাইকারদের হাত ঘুরে হিলি, বেনাপোলসহ বিভিন্ন বন্দর ও সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে অবৈধভাবে পাঙ্গাশের পোনা যাচ্ছে ভারতে।
চাষকারীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘দেশি মাগুর, দেশি শিং, পাবদা, গোলসা, দেশি টেংরা, চিতল, ব্লাড কাপ, মোনোসেক্স তেলাপিয়া, এই মাছটা আমরা বেশিরভাগ এখান থেকে নিয়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলাতে আমরা সরবরাহ করে থাকি।’
ব্যবসায়ীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘আজকে নিছি পাঙ্গাশ, তারপর দেশি মাগুর নিছি। এগুলা লিয়াই আজকে যাবো। কানোস, মাগুর, পাবদা, টেংরা—সব রকমের মাছ এখানে পাওয়া যায়, দেশি মাগুর। এলা বেচাকিনা করি আমরা এখান থাইক্যা লিয়া।’
জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের হিসাব অনুযায়ী, বৈধভাবে বছরে চার কোটি পোনা রপ্তানি হলেও অবৈধভাবে ৩০ কোটি পোনা যাচ্ছে ভারতে।
বগুড়া জেলা মৎস্য কর্মকর্তা খালেকুজ্জামান সরকার বলেন, ‘কৃষি এখানে ভতুর্কি পাইলেও বিদ্যুৎ খাতে মৎস্য তে এখনো কোনো হ্যাচারি না, মৎস্য চাষে না, কেউ ভর্তুকি পাচ্ছে না। সুতরাং আমাদের এই সেক্টরটা এই বিদ্যুতের যদি আমরা এই ভর্তুকিটা কনফার্ম করতে না পারি, সরকারের কাছ থেকে যদি এটা আমরা ভর্তুকি আদায় করতে না পারি, আমাদের এই খাত আস্তে আস্তে অনেক ডিমোশনের দিকে যাচ্ছে।’
জেলায় মোট ১৬৩টি হ্যাচারিতে প্রতি বছর বিভিন্ন মাছের রেনু উৎপাদন হয় ১৩০ মেট্রিক টন, যা থেকে উৎপাদন ছাড়িয়ে যায় শতকোটি পোনা।





