অন্যদিকে, চীনের তিব্বত অংশে ১৬ নিহত এবং নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ৫৪৬ জন। দুই দেশ মিলিয়ে মোট প্রাণহানি ১ হাজার ৩ জনে পৌঁছেছে এবং নিখোঁজের মোট সংখ্যা প্রায় সাড়ে চার হাজার।
নেপাল ও আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলোর তৎপরতায় এ পর্যন্ত ১১ হাজার ৮১৪ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
বর্তমানে উদ্ধারকারীদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারে রয়েছে ত্রিশূলি নদীর তীরে ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর সুড়ঙ্গে আটকে পড়া আনুমানিক ৫০০-৬০০ জন শ্রমিক। ত্রিশূলি-৩এ এবং ৩বি প্রকল্পের কাদাভর্তি সুড়ঙ্গে পৌঁছাতে উদ্ধারকর্মীরা পাহাড়ে বিস্ফোরক দিয়ে ব্লাস্টিং করছেন এবং ভেতরে বাতাস পাম্প করছেন।
নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানান, এসব প্রকল্প এলাকা থেকে এ পর্যন্ত ২৭৯ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
নেপাল ও চীনের সামরিক বাহিনীর পাশাপাশি ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া এবং অস্ট্রেলিয়ার বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি আন্তর্জাতিক দল এই উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করছে।
সুড়ঙ্গে আটকে থাকা শ্রমিকদের ফিরে পাওয়ার আশায় উদ্বেগে প্রহর গুনছেন স্বজনেরা। নিখোঁজ ৩৩ বছর বয়সী প্রকৌশলী ঔরস ভাণ্ডারীর স্ত্রী অনুশীলা ভাণ্ডারী বিবিসি নেপালিকে বলেন, ‘আমি শুধু তাকে ফিরে পেতে চাই, সে যেন ঘরে ফিরে আসে।’
আপার ত্রিশূলি-১ প্রকল্পে নিখোঁজ প্রকৌশলী মিলানের বোন প্রিয়া খারেল জানান, ‘যাদের উদ্ধার করা হয়েছে, তারা বলেছে সুড়ঙ্গের ভেতর মানুষ রয়েছে। তাই সেনাবাহিনী দ্রুত পৌঁছাতে পারলে তাদের বাঁচানো সম্ভব।’
আরেক নিখোঁজ কর্মীর স্ত্রী সীতা পাণ্ডে বলেন, ‘ভেতরে অক্সিজেন ব্যবস্থা থাকায় আমার স্বামী এখনো বেঁচে আছেন বলে আশা রয়েছে।’
উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়া হেলিকপ্টার পাইলট বিমল শর্মা তিব্বত সীমান্তবর্তী তিমুরে এলাকার ধ্বংসযজ্ঞ দেখে বলেন, ‘মনে হচ্ছিল সম্পূর্ণ অচেনা কোনো বিরানভূমির ওপর দিয়ে উড়ছি।’





