দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ইসলামি ধর্মতত্ত্ব, হাদিস, ফিকহ ও সিরাতবিষয়ক গবেষণায় তিনি উপমহাদেশের অন্যতম প্রভাবশালী আলেম হিসেবে পরিচিত ছিলেন। শিক্ষকতা, গবেষণা, গ্রন্থ রচনা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার মাধ্যমে তিনি ভারতসহ মুসলিম বিশ্বে ইসলামি শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
১৯৫৪ সালে উত্তর প্রদেশের লখনৌর একটি ঐতিহ্যবাহী আলেম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন সালমান নদভী। তিনি বংশসূত্রে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)–এর দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসেন (রা.)–এর বংশধর ছিলেন।
তার শিক্ষাজীবনের সূচনা হয় উপমহাদেশের অন্যতম খ্যাতনামা ইসলামি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামায়। সেখানেই তিনি পবিত্র কোরআন হিফজ সম্পন্ন করেন। ১৯৭৪ সালে একই প্রতিষ্ঠান থেকে স্নাতক এবং ১৯৭৬ সালে হাদিসশাস্ত্রে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
আরও পড়ুন:
পরে উচ্চশিক্ষার জন্য সৌদি আরবের ইমাম মুহাম্মদ ইবনে সৌদ ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখানে প্রখ্যাত মুহাদ্দিস শেখ আব্দুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহর তত্ত্বাবধানে ১৯৮০ সালে হাদিসশাস্ত্রে দ্বিতীয়বার স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
শিক্ষাজীবন শেষে তিনি দারুল উলুম নদওয়াতুল উলামায় শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। দীর্ঘ সময় প্রতিষ্ঠানটির ‘ফ্যাকাল্টি অব দাওয়াহ অ্যান্ড শরিয়াহ’র ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার কাছে ভারতসহ অন্যান্য দেশের হাজারো শিক্ষার্থী শিক্ষা গ্রহণ করেছেন।
শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন শিক্ষা ও জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ড. আব্দুল আলী ইউনানি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের চেয়ারম্যান, দারুল উলুম সৈয়দ আহমদ শহীদের চ্যান্সেলর এবং যুব সংগঠন ‘জমিয়ত শাবাবুল ইসলামের’ সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। এছাড়া মেডিকেল, প্রকৌশল ও তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠায়ও তার ভূমিকা ছিল।
আরও পড়ুন:
আরবি ও উর্দু ভাষায় ধর্মতত্ত্ব, ইতিহাস, সিরাত ও সমসাময়িক মুসলিম সমাজ নিয়ে তিনি বহু গ্রন্থ রচনা করেছেন। ইংরেজি, আরবি, উর্দু ও ফারসি ভাষার বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সাময়িকীর সম্পাদক ও সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
সমসাময়িক রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিষয়ে তিনি ছিলেন স্পষ্টভাষী। মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন সংকট, বিশেষ করে ফিলিস্তিনসহ আন্তর্জাতিক ইস্যু এবং মুসলিম দেশগুলোর নীতিনির্ধারণ নিয়ে তার বক্তব্য বিভিন্ন সময় আলোচনায় আসে।
মাওলানা সালমান নদভীর মৃত্যুর খবরে ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের আলেম, শিক্ষাবিদ, ইসলামি প্রতিষ্ঠান এবং তার অসংখ্য শিক্ষার্থী ও শুভানুধ্যায়ীরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তার মৃত্যুতে ইসলামি শিক্ষা ও গবেষণার অঙ্গনে এক গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বের অধ্যায়ের অবসান ঘটলো।





