বাঁকুড়া জেলার বিষ্ণুপুরে নির্বাচনি জনসভায় প্রধানমন্ত্রী মোদি অভিযোগ করেন, জাতীয় কংগ্রেসের সঙ্গে হাত মিলিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস সংসদে নারী সংরক্ষণ বিল আটকে দিয়েছে।
তিনি বলেন, ‘তৃণমূল বাংলার নারীদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। বাংলার নারীরা লোকসভা ও বিধানসভায় ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ চান। মোদি সেটা নিশ্চিত করতে চেয়েছে। কিন্তু তৃণমূল চায় না বাংলার মেয়েরা বেশি সংখ্যায় সাংসদ ও বিধায়ক হোক।’
মোদি আরও অভিযোগ করেন, তৃণমূল অনুপ্রবেশকারীদের সুবিধা দিতে আইন ভঙ্গ করছে এবং ধর্মের ভিত্তিতে সংরক্ষণ দিয়ে সংবিধানের ক্ষতি করছে।
তৃণমূল সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘৩ মের আগে থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করুন, না হলে ৪ মের পর কেউ রেহাই পাবে না।’
আরও পড়ুন:
অন্যদিকে, হুগলি জেলার তারকেশ্বরে দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে প্রচারে গিয়ে মোদিকে পাল্টা জবাব দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তিনি বলেন, ‘ওরা আমাদের নামে মিথ্যা কথা বলছে। নারী বিলের সঙ্গে ডিলিমিটেশন বিল জুড়ে দেয়া হয়েছিল। এর অর্থ দেশকে টুকরো টুকরো করা।’
মমতা দাবি করেন, ২০২৩ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর সংসদে নারী বিল পাশ হয়েছিল এবং তখন তৃণমূলসহ সবাই সেটিকে সমর্থন করেছিল।
তিনি বলেন, ‘ওরা যদি সত্যিই নারীদের ভালোবাসত, তাহলে আগের পাশ হওয়া বিলই কার্যকর করত। বিজেপি সেটা কখনও করবে না।’
মমতা আরও বলেন, ‘বিল আটকেছি, বেশ করেছি, হাজার বার করব’—এ মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি কেন্দ্রের প্রস্তাবিত বিলের বিরোধিতায় নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন।
আরও পড়ুন:
শনিবার জাতির উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী মোদির ভাষণ নিয়েও সমালোচনা করেন মমতা। তার অভিযোগ, রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ব্যবহার করে রাজনৈতিক প্রচারণা চালানো হয়েছে।
নিজেকে ‘খুনের ষড়যন্ত্রের শিকার’ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। মমতা বলেন, তার ঘনিষ্ঠদের বাড়িতে বিভিন্ন সংস্থার অভিযান চালানো হচ্ছে।
রাজ্যে চতুর্থবারের মতো তৃণমূল সরকার গঠনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যদি আমার নেতৃত্বে সরকার চান, তাহলে কে প্রার্থী সেটা ভুলে যান। ২৯৪ আসনেই আমি প্রার্থী।
রোববার পশ্চিমবঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মোদির চারটি এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতার চারটি নির্বাচনি কর্মসূচি ছিল। এছাড়া তৃণমূলের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তিনটি এবং বিজেপির শীর্ষ নেতা জে পি নাড্ডা দুটি সভায় অংশ নেন।
এদিকে, নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারীর সমর্থনে রোড শো করেন অভিনেত্রী ও বিজেপি এমপি কঙ্গনা রানাউত।





