অর্ধশত সেনা হত্যার পর পাকিস্তানের পাল্টা জবাবের আগুনে পুড়ছে আফগানিস্তান। তালেবানের প্রায় শ’খানেক ঘাঁটি গুড়িয়ে দিয়ে বেশ কয়েকটি চৌকির দখল নিয়েছে ইসলামাবাদের সেনারা। ওড়ানো হয়েছে পাকিস্তানের পতাকা।
গেল রোববার পাক সেনাদের চৌকিতে আফগানিস্তানের হামলার পর তিন থেকে চার দিন ধরেই ডুরাল্ড লাইনের সেনা উপস্থিতি ও যুদ্ধ সরঞ্জাম বাড়াচ্ছিলো পাকিস্তান। তাই পাল্টা হামলা করতে খুব একটা সময় নেয়নি ইসলামাবাদ। শুরু হয় অপারেশন গাজাব লিল হক। যুদ্ধবিমান থেকে একের পর এক হামলা করা হয় কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিকায়। হামলা হয়েছে নানগারহরে তালেবানের ব্রিগেড ও সদরদপ্তরে। সবশেষ আফগান পোস্ট এইটেরও দখল নিয়েছে পাক সেনারা। তালেবান হামলা রুখে দিতে দেশজুড়ে ড্রোন ওড়ানোয় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে শেহবাজ শরীফের সরকার।
কিছুটা কোণঠাসা হলেও পাল্টা জবাব দিচ্ছে আফগান যোদ্ধারাও। তালেবান সরকারের দাবি বৃহস্পতিবার থেকে অর্ধশতের বেশি পাক সেনাকে হত্যা করা হয়েছে। জিম্মি করা হয়েছে বেশ কয়েকজনকে। দুই দেশ নিজেদের সূত্র অনুযায়ী, হতাহতের সংখ্যা প্রকাশ করার প্রকৃত তথ্য নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা।
আরও পড়ুন:
এদিকে গেল অক্টোবরের সংঘাত থামাতে এগিয়ে এলেও এবার আর কাবুল-ইসলামাবাদের দ্বন্দ্বে নাক গলাবে না ওয়াশিংটন। হোয়াইট হাউসের লনে দাঁড়িয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের কৌশলী পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইসলামাবাদকে পূর্ণ সমর্থন দিয়ে দাবি করেছেন, তালেবান হামলার বিপরীতে পাকিস্তানের আত্মরক্ষা করার অধিকার আছে।
জাতিসংঘের তথ্য, এ যুদ্ধের ফলে সবচেয়ে বড় ঝুঁকিতে পড়েছে আফগানিস্তানের সাধারণ মানুষ। আগে থেকেই দেশটির দুই কোটি ২০ লাখ মানুষ মানবিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। তোরখাম সীমান্তের ট্রানজিট সেন্টারে হামলায় ব্যাহত হচ্ছে ত্রাণ কার্যক্রমও। জাতিসংঘের মুখপাত্র জানিয়েছেন, এমন পরিস্থিতিতে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
সংঘাত থামাতে ইসলামাবাদের সঙ্গে আলোচনার বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছে কাবুলও। আর তালেবানের নাশকতার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের। এমন প্রেক্ষাপটে দুই দেশকে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হতে আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ, ইইউ। সংলাপে বসার পরামর্শ ইরান, মিশর, ব্রিটেন, মালয়েশিয়া, তুরস্কসহ বেশ কয়েকটি দেশের।





