জেনজি বিক্ষোভে প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার ৬ মাসের মধ্যেই আগামী ৫ মার্চ নেপালে হতে যাচ্ছে সাধারণ নির্বাচন। প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণায় গুরুত্ব পাচ্ছে বেকারত্বের প্রসঙ্গ। ১২ লাখ কর্মসংস্থান তৈরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তরুণ প্রজন্মের আইডল খ্যাত র্যাপার বালেন্দ্র শাহ’র দল রাষ্ট্রীয় স্বাধীন পার্টি। গগন থাপার দল নেপালি কংগ্রেস পার্টি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ১৫ লাখ কর্মসংস্থান তৈরির।
দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেলে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বিদেশে পাড়ি জমানো কর্মী সংখ্যাও অর্ধেক বা তারও নীচে নামিয়ে আনার আশ্বাস দিচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলো। তবে বাস্তবতা ভিন্ন। কর্মসংস্থান নিয়ে নির্বাচনি ইশতেহার দিয়েও বেকার তরুণদের মনে আশার আলো জাগাতে পারছে না রাজনৈতিক দলগুলো। ফলে নির্বাচনের সময়েও বিদেশে পাড়ি জমানো কর্মীর ভিড় বাড়ছে বিমানবন্দরগুলোতে। বেশিরভাগেরই গন্তব্য মধ্যপ্রাচ্য।
আরও পড়ুন:
বিদেশগামী নেপালিরা জানান, আশঙ্কাজনক হারে বেকারত্ব বেড়েছে। তাই আমাদের বিদেশে যাওয়াই ভালো। রাজনৈতিক দলগুলো আগেও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, কিছুই হয়নি। এছাড়াও নেপালের চেয়ে উপসাগরীয় অঞ্চলে গিয়ে কাজ করলে চারগুণ বেশি মজুরি পাওয়া যাবে।
কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশে যাওয়ার চেষ্টায় নেপালের ট্রেনিং সেন্টারগুলোতেও ভিড় বেড়েছে কয়েকগুণ। দিন-রাত খেটে বিদেশে কাজের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করছেন বহু নেপালি। বেকারত্বের পাশাপাশি রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকেই হিমালয় কন্যা খ্যাত নেপালের জনগণ বিদেশে চাকরি করাকেই বেশি নিরাপদ মনে করছেন।
নেপালের এক বাসিন্দা বলেন, ‘নেপালে কেউ সঠিক কর্মসংস্থান পায় না। যার কারণে যথেষ্ট অর্থ উপার্জন সম্ভব হয় না। ফলে পরিবার ও সন্তান লালন-পালনের জন্য দেশান্তর হতে বাধ্য হতে হয়।’
নেপালের মাদারল্যান্ড স্কিলস অ্যাকাডেমির প্রশিক্ষক মহেশ দাহাল বলেন, ‘নেপালে কোনো নিশ্চিত চাকরির বাজার নেই। কর্মসংস্থানের অভাব ছাড়া রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণেও মানুষ বিদেশের কর্মসংস্থানকে বেশি নিরাপদ মনে করছে।’
নেপালের ৩ কোটি জনগণের কমপক্ষে ৩০ লাখই বিদেশে কাজ করে। শ্রমিক ইউনিয়নের দেয়া তথ্য বলছে, এখনও চাকরির জন্য প্রতিদিন দেশ ছাড়ছেন প্রায় ১৫০০ নেপালি।




