Recent event

অন্তর্বর্তী প্রশাসনের কড়া নিরাপত্তা; তবু নেপালে সুষ্ঠু ভোট নিয়ে উদ্বেগ

অন্তর্বর্তী প্রশাসনের কড়া নিরাপত্তা ভোট নিয়ে শঙ্কা
অন্তর্বর্তী প্রশাসনের কড়া নিরাপত্তা ভোট নিয়ে শঙ্কা | ছবি: এখন টিভি
0

অন্তর্বর্তী প্রশাসনই মনে করছে, জেন-জি বিক্ষোভের পর ৫ মার্চ নেপালের আসন্ন সাধারণ নির্বাচন হবে অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। প্রায় ১১ হাজার ভোটকেন্দ্রের মধ্যে বেশিরভাগই ঝুঁকিপূর্ণ বলছে পুলিশ। এজন্য মোতায়েন করা হয়েছে ৭৯ হাজারের বেশি সেনা সদস্য। তবু ভোটারদের মধ্যে অবাধ ও সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিয়ে শঙ্কা রয়েছে।

২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর। সরকারবিরোধী জেন-জি বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে নেপাল। রক্তক্ষয়ী দমন-পীড়ন চালিয়েও গদি ধরে রাখতে পারেননি প্রধানমন্ত্রী ও কমিউনিস্ট পার্টি অব নেপালের চেয়ারম্যান কে পি শর্মা ওলি।

তরুণদের আন্দোলনের মুখে কে পি শর্মা ওলি ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পাঁচ মাসও পূর্ণ হতে না যাওয়া পর্যন্ত, বর্তমানে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান সুশীলা কার্কির হাত ধরে নেপালে বইছে ভোটের আমেজ। তবে ৫ মার্চ হতে যাওয়া নির্বাচনের ঘিরে শঙ্কার পাল্লা ঘনীভূত হচ্ছে পুরো দেশে।

ভোটের লড়াইয়ে ক্ষমতাচ্যুত কে পি শর্মা ওলির প্রত্যাবর্তনের সুযোগে হতাশ তরুণ প্রজন্ম। যদিও জনমত জরিপে এগিয়ে রয়েছেন রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতা পার্টির নেতা এবং তরুণ প্রজন্মের আইডল র‌্যাপার বালেন্দ্র শাহ। অন্যদিকে জ্যেষ্ঠ নেতা শের বাহাদুর দেউবাকে বহিষ্কার করে তরুণ নেতা গগন থাপাকে দলে চেয়ারম্যান করার ফলে সংকটের মুখে রয়েছে নেপালি কংগ্রেস পার্টি।

এ অবস্থায় সাধারণ নির্বাচন এগিয়ে আসতেই ভোট কারচুপি, কেন্দ্র দখলসহ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও দাঙ্গা-হাঙ্গামার শঙ্কা প্রকট হচ্ছে। নির্বাচনে অবাধ ও সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ সম্ভব নাও হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বহু মানুষ।

নিরাপত্তার দিক থেকে আগের যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় এবারের ভোট হবে চ্যালেঞ্জিং। এমনকি ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যাও বেশি। কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

এমন পরিস্থিতিতে ২৭৫ আসনের প্রতিনিধি সভা বা জাতীয় নির্বাচনের এক মাস আগেই নিরাপত্তা জোরদারে তৎপরতা বাড়িয়েছে সুশীলা কার্কি প্রশাসন। এর আওতায় ৪ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭৯,৭২৭ সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া কেবল নির্বাচনকালীন ১.৫ লাখ অস্থায়ী নিরাপত্তা কর্মী নিয়োগ দিয়েছে পুলিশ। তাদের ১০ দিনের মৌলিক প্রশিক্ষণের পর ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে ৯ মার্চ পর্যন্ত দায়িত্ব দেওয়া হবে। সব মিলিয়ে মাঠে মোতায়েন থাকবে ৩ লাখ ৩৮ হাজার নিরাপত্তাকর্মী।

নেপালের নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, জেন-জি বিক্ষোভের পর নতুন ভোটার হয়েছেন প্রায় ১০ লাখ। ফলে গত নির্বাচনের তুলনায় এবার ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৭৫টি বৃদ্ধি করতে হয়েছে।

নেপাল পুলিশের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, এবার ১০,৯৬৭টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২,৮০০ ছাড়া সবগুলোই ঝুঁকিপূর্ণ। অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ তালিকায় রাখা হয়েছে ৩,৬৮০টি কেন্দ্র। বিশেষ করে কোশি এবং মাধেশ প্রদেশের নিরাপত্তায় সেনাবাহিনীর কাছ থেকে প্রায় ৪ হাজার অস্ত্র নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে পুলিশের।

জেআর