নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা জানান, নিহতদের মধ্যে বিক্ষোভকারী এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য—উভয়ই রয়েছেন। তবে পৃথকভাবে কতজন বিক্ষোভকারী বা কতজন নিরাপত্তা কর্মী মারা গেছেন, তার কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য তিনি দেননি।
এই কর্মকর্তা সহিংসতার জন্য ‘সন্ত্রাসীদের’ দায়ী করে দাবি করেন, তারাই দুই পক্ষকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
ভয়াবহ অর্থনৈতিক মন্দা এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই আন্দোলন গত তিন বছরের মধ্যে দেশটির জন্য সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গত বছর ইরান জুড়ে ইসরায়েলি ও মার্কিন হামলার পর থেকে দেশটি এমনিতেই আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ছিল, যার প্রভাব পড়েছে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও।
এদিকে, বিবিসি পার্সিয়ান সংবাদদাতা জিয়ার গোল বার্তা সংস্থাকে রয়টার্সকে জানিয়েছে, ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে অভিযানে সহস্রাধিক মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। জিয়ার গোল বলেন, ‘আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলতে পারেন যে মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে গেছে। ইরান সরকার আগেও শক্তি প্রয়োগ করেছে কিন্তু এবারে যা ঘটছে তা একেবারেই নজিরবিহীন’।
১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর থেকে ক্ষমতায় থাকা দেশটির কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভ দমনে দ্বিমুখী নীতি গ্রহণ করেছে। একদিকে তারা অর্থনৈতিক সমস্যার কারণে সৃষ্ট ক্ষোভকে ‘বৈধ’ বলে অভিহিত করছে, অন্যদিকে রাজপথে কঠোর নিরাপত্তা অভিযানের মাধ্যমে দমন-পীড়ন চালাচ্ছে।
আরও পড়ুন:
ইরান সরকার বরাবরই এই অস্থিরতার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে অভিযুক্ত করে আসছে। তাদের দাবি, বিদেশি মদতপুষ্ট ‘সন্ত্রাসীরা’ সাধারণ মানুষের আন্দোলনকে ছিনতাই করেছে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো এর আগে কয়েকশ মানুষের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছিল এবং জানিয়েছিল যে, হাজার হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে দেশটিতে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট বা সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় তথ্য আদান-প্রদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
তা সত্ত্বেও রয়টার্স কর্তৃক যাচাইকৃত বেশ কিছু ভিডিওতে দেখা গেছে, রাতের অন্ধকারে বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ চলছে। ভিডিওগুলোতে গোলাগুলি এবং গাড়ি ও ভবনে অগ্নিসংযোগের দৃশ্যও ধরা পড়েছে।

 reacts as he holds a picture of Sonam Wangchuk-320x167.webp)



