ইসরাইলি নৃশংসতায় গাজায় প্রাণহানি ৫০ হাজারের বেশি

এশিয়া
বিদেশে এখন
0

ইসরাইলি নৃশংসতায় গাজায় প্রাণহানি ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। যাদের মধ্যে ১৭ হাজারের ওপর শিশু। বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পাশাপাশি গাজার অভ্যন্তরে চলছে স্থল অভিযান। এদিকে, নেতানিয়াহু সরকারের সমালোচনা করে অনাস্থা ভোটের মুখে পড়েছেন ইসরাইলের অ্যাটর্নি জেনারেল।

ট্রাম্পের উদ্যোগে যুদ্ধ বন্ধ ও স্থায়ী শান্তির আশায় বুক বেঁধেছিল গাজাবাসী। প্রথম দফায় ৪২ দিনের যুদ্ধবিরতিতে নিজ আবাসস্থলে ফিরে আসে বহু ফিলিস্তিনি। ধ্বংসস্তূপের মধ্যেও নতুন করে স্বপ্ন দেখতে থাকে তারা। নানা অজুহাতে ভেস্তে যায় দ্বিতীয় দফার যুদ্ধবিরতি আলোচনা।

রোজার মধ্যেই শুরু হয় ইসরাইলিদের বর্বর হামলা। মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে হত্যা করা হয় দুইশ' শিশুসহ ছয় শতাধিক ফিলিস্তিনিকে। এরই মধ্যে নতুন করে যুদ্ধ ছড়িয়েছে লেবানন ও ইয়েমেনে। ইসরাইলি বাহিনীর সঙ্গে হামলায় যোগ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রও। নির্বিচারে হত্যা করছে শত শত ফিলিস্তিনিকে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরাইলি আগ্রাসনে গেল ১৭ মাসে নিহত ফিলিস্তিনির সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়িয়েছে। যাদের মধ্যে শিশু ১৭ হাজার। পুরো একটি প্রজন্মই যেন ধুলোয় মিশে গেছে। যা ফিলিস্তিনের জন্য ভয়ংকর এক মাইলফলক। প্রকৃত নিহতের সংখ্যা আরও বেশি হবে ধারণা করা হচ্ছে। এখনো নিখোঁজ হাজার হাজার ফিলিস্তিনি।

এক ফিলিস্তিনি বলেন, ‘৫০ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যুর পরও বিশ্ব ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় নীরব। আরব রাষ্ট্রগুলোও পাশে দাঁড়াচ্ছে না।’

আরেকজন বলেন, ‘আমাদের মতো সাধারণ মানুষের অপরাধ কী? আমরা অনেক সংগ্রাম করেছি। আর না। নিজের আবাসস্থলে একটু শান্তিতে থাকতে চাই।’

অন্য আরেকজন বলেন, ‘নিহত ৫০ হাজার মানুষের মধ্যে নারী ও শিশু আছে অনেক। ইসরাইলিরা আমাদের নিরীহ মানুষদের হত্যা করে আধিপত্য বিস্তার করছে।’

এরপরও বিন্দুমাত্র অনুশোচনা নেই ইসরাইলি বাহিনীর মধ্যে। উলটো হামাস নির্মূলের নামে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে উপত্যকাটিতে। বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সঙ্গে চলছে সামরিক বাহিনীর স্থল অভিযান। নেতজারিম করিডোর দখলে নিয়ে অবরুদ্ধ করে ফেলেছে গাজাবাসীকে। গাজার উত্তর ও দক্ষিণে ঘরে ঢুকে ফিলিস্তিনিদের হত্যা করছে ইসরাইলি সেনারা।

আইন ভঙ্গ করেই ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালানোর অনুমতি দিয়েছে নেতানিয়াহু প্রশাসন। এমন বিস্ফোরক মন্তব্য করে অনাস্থা ভোটে মুখে পড়েছেন ইসরাইলের অ্যাটর্নি জেনারেল গালি বাহরাব মিয়ারা। সরকারের প্রতি শত্রুভাবাপন্ন আচরণের অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। এদিকে, জিম্মিদের মুক্তির সম্ভাবনা অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে। এর প্রতিবাদে নেতানিয়াহুর পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভে নেমেছে জিম্মিদের স্বজনসহ শত শত মানুষ।

এসএইচ