এশিয়া
বিদেশে এখন

কারাগার থেকে ভোট দিলেন ইমরান খান

পাকিস্তানজুড়ে মোবাইল-ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ

রাজনৈতিক অস্থিরতা, সহিংসতা ও চরম অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে। নির্বাচন ঘিরে দেশজুড়ে নেয়া হয়েছে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা। মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচনে স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। আর নির্বাচনের আগের দিন জোড়া বোমা হামলায় অন্তত ৪০ জনের প্রাণ গেছে। এছাড়া রাজনৈতিক অস্থিরতা, ইমরান খানের দল পিটিআই-কে নিষিদ্ধ করা ও দলীয় প্রতীক কেড়ে নেয়াসহ নির্বাচনে নানা বিষয় প্রভাব রাখছে। রাজনৈতিক দলগুলোর সমান সুযোগ না পাওয়ার অভিযোগ করেছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। তবে তথ্যমন্ত্রীর দাবি, নির্বাচনে সবাইকে সমান সুযোগ দেয়া হয়েছে।

এবারের নির্বাচনে জাতীয় পরিষদের ২৬৬টি আসনে লড়ছেন ৫ হাজার ১২১ জন প্রার্থী। একইসঙ্গে প্রাদেশিক পরিষদের প্রার্থী ১২ হাজার ৬৯৫ জন। একজন ভোটার জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদে একটি করে মোট দুইটি ভোট দিতে পারবেন। ৯০ হাজার ভোটকেন্দ্রে স্থানীয় সময় বিকাল ৫টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ চলবে। কেন্দ্রে সহিংসতা বা কোনো ধরনের সমস্যা হলে ভোটের সময় বাড়াতে পারবে নির্বাচন কমিশন।

ভোটাররা বলেন, ‘সবাই আগ্রহ নিয়ে ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে যাচ্ছে। ভোটের ব্যবস্থা খুবই ভালো। আমরা চাই এমন দল নির্বাচিত হোক, যারা আমাদের চলমান সব সমস্যার সমাধান করবে।’

নির্বাচন ঘিরে পাকিস্তানজুড়ে সাড়ে ৬ লাখ সেনা, আধাসামরিক ও পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। খাইবারপাখতুন খোয়া প্রদেশের সোয়াত অঞ্চলে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর জন্য সাড়ে ৬ হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া প্রতিবেশী ইরান ও আফগানিস্তানের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ রেখেছে পাকিস্তান। শুক্রবার সীমান্তের কার্যক্রম আবার স্বাভাবিক হবে। সহিংসতা ও জঙ্গি কার্যক্রম ঠেকাতে মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

এদিকে নির্বাচনের আগে একাধিক মামলায় কারাবন্দী প্রধান বিরোধী নেতা ইমরান খান। দণ্ডিত হওয়ায় নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি তিনি। তবে জেলে থেকেই প্রভাব রাখছেন নির্বাচনে। তার দলের ২৩৬ জন প্রার্থী স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগার থেকে ভোট দেন ইমরান খান। এছাড়া তার দলের অন্যান্য নেতারাও কারাগার থেকে ভোট দিয়েছেন। তবে ইমরানের স্ত্রী বুশরা বিবি ভোট দিতে পারেননি। কারণ পোস্টাল ভোটিং প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর গ্রেপ্তার হন তিনি।

ভোট শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগে ইমরান খানের দল পিটিআই নির্বাচন বর্জনের গুজব ছড়িয়ে পড়ে পাকিস্তানজুড়ে।

এদিকে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক নীতিকে বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছে মার্কিন পর্যবেক্ষক দল। পাকিস্তানিদের ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত এবং নির্বাচনে হয়রানি ও ভীতি প্রদর্শন বন্ধে উদ্যোগ নেয়ার কথাও বলেন তারা।

এই সম্পর্কিত অন্যান্য খবর