Recent event

সশস্ত্র অস্ত্রধারীদের গুলিতে নিহত গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল-ইসলাম

সাইফ আল-ইসলাম
সাইফ আল-ইসলাম | ছবি: সংগৃহীত
0

লিবিয়ার প্রয়াত শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল- ইসলামকে গুলি করে হত্যা করেছে সশস্ত্র অস্ত্রধারীরা। মঙ্গলবার সাইফের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করে বিবৃতি দিয়েছে তার রাজনৈতিক দল। যদিও হত্যার মূল কারণ এখনো জানা যায়নি। পশ্চিমা মনোভাবে বিশ্বাসী সাইফ লিবিয়ার মানুষের কাছে সংস্কারবাদী হিসেবে সুনাম পেলেও, ২০১১ সালে আরব বসন্তের সময় আন্দোলনে বাবার পক্ষ নেয়ায় ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেন।

লিবিয়ায় অস্ত্রধারীদের হামলায় প্রাণ ঝরলো দেশটির প্রয়াত শাসক মুহাম্মার গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল- ইসলাম গাদ্দাফির। রাজধানী ত্রিপোলি থেকে ১৩৬ কিলোমিটার দক্ষিণ- পশ্চিমে অবস্থিত জিনতান শহরে তার নিজ বাসায় আক্রমণ চালিয়ে হত্যা করে হামলাকারীরা।

মঙ্গলবার, সাইফের মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করে বিবৃতি দেয় তার রাজনৈতিক দল। জানায়, চার মুখোশধারী সশস্ত্র ব্যক্তির সঙ্গে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত লড়ে যান সাইফ। সশস্ত্র অস্ত্রধারীরা প্রমাণ লোপাটে বাড়ির সিসি ক্যামেরা বন্ধ করে দিয়েছিল বলেও অভিযোগ করা হয় বিবৃতিতে। যদিও হামলার প্রকৃত কারণ এখনো অজানা।

তবে ভিন্ন দাবি করছে সাইফের বোন। লিবিয়ার একটি গণমাধ্যমে দেয়া বক্তব্যে তিনি জানান, লিবিয়া- আলজেরিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায় তাকে হত্যা করা হয়েছে।

আরও পড়ুন:

২০১১ সালের আরব বসন্তে লিবিয়ার সাবেক শাসক মুয়াম্মর গাদ্দাফির মৃত্যুর পর, তার উত্তরাধিকার টিকিয়ে রেখেছিলেন ছেলে সাইফ আল- ইসলাম গাদ্দাফি। যদিও সাইফ বারবার দাবি করে আসছিলেন, তিনি বাবার উত্তরসূরি হতে চান না। এরপরও বাবা মৃত্যুর পর মুখ থুবড়ে পড়া লিবিয়া পুনর্গঠনে পপুলার ফ্রন্ট ফর দি লিবারেশন অব লিবিয়া নামে রাজনৈতিক দল গঠন করেন তিনি। সিদ্ধান্ত নেন ২০২১ সালে দেশটির প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশগ্রহণের ।যদিও অনির্দিষ্টকালের জন্য এটি স্থগিত হয়ে যায়।

১৯৭২ সালে জন্ম নেয়া সাইফ ছিলেন মুয়াম্মর গাদ্দাফির দ্বিতীয় পুত্র। লন্ডনে উচ্চশিক্ষা অর্জন করা সাইফ বাবার শাসনামলে পশ্চিমাদের সঙ্গে ত্রিপোলির সম্পর্ক উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। তিনি লিবিয়ার পারমাণবিক অস্ত্র পরিত্যাগ বিষয়ের আলোচনার নেতৃত্ব দেন এবং তার উদ্যোগেই একের পর এক পশ্চিমা দেশ লিবিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে থাকে।

তবে লিবিয়ার রাজনীতিতে সংস্কারবাদী হিসেবে পরিচিত সাইফ বিতর্কের জন্ম দেন ২০১১ সালে। আরব বসন্তের সময় বাবার বিরুদ্ধে হওয়া আন্দোলন দমাতে নিপীড়নের অন্যতম কুশীলব ছিলেন তিনি। একারণে জাতিসংঘের লাল তালিকায় অন্তভুর্ক্ত হন সাইফ। জারি করা হয় ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা।

গাদ্দাফির পতনের পর বিদ্রোহীরা ত্রিপোলি দখল করলে ছদ্মবেশে পালাতে চান তিনি। তবে মিলিশিয়া বাহিনী তাকে আটক করে এবং জিনতানে প্রায় ৬ বছর বন্দি করে রাখে। ২০১৭ সালে মুক্তি পাওয়া তিনি সম্ভাব্য হামলা এড়াতে জিনতানে একপ্রকার গোপনে থাকেন।

এএম