বাধাহীনভাবে অনেকটা দুর্বার গতিতেই এগিয়ে চলছে পাকিস্তান তেহরিক-ই ইনসাফ দলের লংমার্চ। খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদির নেতৃত্বে বিশাল গাড়িবহর কারাক শহর থেকে কোহাট জেলায় পৌঁছেছে। যাত্রাবিরতি শেষে এখান থেকে লংমার্চটির পরবর্তী গন্তব্য পেশোয়ার শহর।
পিটিআই জানায়, তারা কোনো ধরনের সংঘাতে জড়াবে না। যেখানেই বাধার মুখে পড়বে সেখানেই শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে তারা। যেকোনো মূল্যে ইমরান খানের মুক্তি চায় তারা।
দীর্ঘ লড়াইয়ের আহ্বান জানিয়ে সমর্থকদের উদ্দেশে সোহাইল আফ্রিদি বলেন, আসল খেলা শুরু হবে ৮ অক্টোবর থেকে।
তবে পিটিআই সমর্থকদের লংমার্চের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের গভর্নর ফয়সাল করিম। তিনি বলেন, দলটির শক্তি নেই পাঞ্জাবের অ্যাটক শহরের বাইরে লং মার্চ এগিয়ে নেয়ার। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, বিশ্বের সামনে পাকিস্তানের ভাবমূর্তি নষ্ট করছে পিটিআই।
এদিকে, আন্দোলন বিক্ষোভে না গিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে পাকিস্তান সরকার। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ বলেন, সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি অনুসরণ করা প্রাদেশিক সরকারের একটি সাংবিধানিক দায়িত্ব। তবে কেবল সন্ত্রাসবাদ নয়, ইমরান খানের মুক্তির ইস্যু সরকারের আলোচনা প্রক্রিয়ায় যুক্ত না করলে সরকারের সঙ্গে কোনো সমঝোতা নয় বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে পিটিআই।
যেকোনো উপায়ে পিটিআই-এর লংমার্চ ঠেকাতে বদ্ধ পরিকর শেহবাজ শরীফের সরকার। রাজধানী ইসলামাবাদ লকডাউনের পর জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশের পাশাপাশি মোতায়েন রয়েছে আধাসামরিক বাহিনীও। প্রবেশপথে রাস্তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে শিপিং কন্টেইনার দিয়ে। লংমার্চ ঘিরে বেশকিছু জেলায় জারি রয়েছে ১৪৪ ধারা।
চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেই দুইদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে পাকিস্তানে গেলেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। মঙ্গলবার ভোরে ইসলামাবাদে পৌঁছান তিনি। সফরকালে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক করবেন।





