টানা ১২ বছর ধরে ধুলাবালি, চরম যানজট আর দুর্ঘটনার দুর্ভোগ সামলাতে হয়েছে ঢাকা-গাজীপুর রুটের লাখ লাখ মানুষকে।
তবুও লক্ষ্য ছিল একটিই দ্রুত ও নির্বিঘ্নে গন্তব্যে পৌঁছানো। কিন্তু প্রায় ৯৭ শতাংশ কাজ শেষ হওয়ার পর হুট করেই সিদ্ধান্ত ভেঙে ফেলা হবে ঢাকা গাজিপুর রুটের এই বিআরটি প্রকল্পের নির্মিত সব অবকাঠামো।
সবচেয়ে বড় ধাক্কা তৈরি করেছে ভাঙার আর্থিক হিসাব। প্রকল্প নির্মাণেই যেখানে খরচ হয়েছে ৩ হাজার কোটি টাকা, সেখানে কেবল নির্মিত উড়ালপথ ও স্টেশন ভেঙে ফেলতেই গুণতে হবে আরও প্রায় ৪৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ জনগণের করের টাকা যেমন নির্মাণে নষ্ট হয়েছে, তেমনি এখন তা ধ্বংস করতেই খরচ হবে বিশাল অঙ্ক।
সাধারণ জনগণরা জানান, এই ৩ হাজার কোটি টাকা নষ্ট করে এই প্রজেক্ট করা হলো, করার আগে কেন ভাবলো না যে এটি ভাঙতে হবে? তাহলে এই ৩ হাজার কোটি টাকা কেন নষ্ট করা হলো? এই টাকা তো সরকারের না। এই টাকাটা সম্পূর্ণ জনগণের টাকা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যে বিআরটি প্রকল্প ঢাকা-গাজীপুরের মানুষের কাছে একসময় স্বস্তির স্বপ্ন দেখাচ্ছিল, শুরু থেকেই তার গোড়ায় ছিলো গলদ, পরিকল্পনার রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছিল মারাত্মক ভুল আর যারা এই প্রকল্পের দায়িত্বে ছিল তারাও ছিলো না যোগ্য।
যোগাযোগ ও পরিবহন বিশেষজ্ঞ ড. হাদিউজ্জামান বলেন, ‘এখানে আরবান রোড হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। আবার আমরা শহরতলীর মুভমেন্ট বলছি ঢাকাতে গাজীপুর। আবার আন্তঃজেলা বাসগুলো এই করিডোরে ঢুকছে। পাশাপাশি যেহেতু অনেকগুলো শিল্প কারখানা এটা একটা ইন্ডাস্ট্রিয়াল বেল্ট।’
এই বিশেষজ্ঞের মতে বিআরটি অবকাঠামো ভাঙতে যেমন খরচ হবে বিপুল অর্থ, তেমনি দীর্ঘ মেয়াদি ভোগান্তিতে পড়বে ঢাকাবাসি৷ একটি রুটের কারণে গতি কমবে পুরো রাজধানী ও উত্তরাঞ্চলের মানুষের।
তিনি বলেন, ‘দুঃখজনক যে আমাদের যারা কনসালটেন্ট ছিলেন, পাশাপাশি যারা বাস্তবায়ন করেছেন, তারা আসলে এই পরিকল্পনার সময় কতটুকু আসলে একটু বিবেচনায় নিয়েছে এই প্রশ্নটা কিন্তু থেকে যাবে। যেখানে অনেক দেশ আমি যেটা বললাম সাকসেসফুলি বিআরটি অপারেট করছে। এবং সেটা রোল মডেল হিসেবে কাজ করছে, আমরা কিন্তু শুরুতেই হোঁচট খেয়ে গেলাম।’
যদিও সম্পূর্ণ বিআরটি বাতিল না করে আগে কম্পিউটারাইউজড মডেল করে ২/৩ ধরনের অপারেশন পরিচালনা করা প্রয়োজন ছিল বলে মত বিশেষজ্ঞদের। এতে বিজ্ঞান ভিত্তিক ভাবে ভাঙ্গা বা গড়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যেত। এমনকি অবকাঠামো না ভেঙেও ভালো সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ ছিলো।
তিনি আরও বলেন, ‘যেহেতু আমাদের সামনে দুই তিনটা অল্টারনেটিভ নিয়ে অনেক সময় কথা হয়েছে। এটা একটা মডেল করে অপারেশনাল বেনিফিট এই কম্প্রুমাইজ সলিউশনের মধ্যে কোনটা বেটার? তুলনামূলকভাবে সেটা আসলে একটু এসেস করে নিলে যেটা হতো যে, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে একটা ডাটা ড্রিভেন বিজ্ঞানভিত্তিক একটা সমাধান হতো, এটা একটা রেফারেন্স হতে পারতো যে, কেন আমরা এই সিদ্ধান্তটা নিলাম।’
আগামীতে এমন প্রকল্পের নামে জনগণের করের টাকা কোনো পরীক্ষাগারের গিনিপিগ নয় বরং সরকারকে নাগরিক সেবা নিশ্চিতের নজর দেয়ার তাগিদ সব মহলের।





