সাত মাসের সংঘাতে ইতি টেনে হরমুজ প্রণালি সচল করতে ওয়াশিংটন-তেহরানকে আলোচনার টেবিলে ধরে রাখার বিরামহীন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কাতার। কিন্তু অগ্রগতির বদলে দীর্ঘায়িত হচ্ছে বাগযুদ্ধ।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের জেরে দূরের লক্ষ্যে আঘাত হানতে ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা বৃদ্ধি নিয়ে কাজ করার কথা জানিয়েছে ইরানের অভিজাত সশস্ত্র বাহিনী আইআরজিসি। হরমুজে গেলো পাঁচদিনে হামলা চালিয়েছে সাতটি তেলবাহী জাহাজে।
তেহরান বলছে, হরমুজে নিরাপত্তা ফেরানো লক্ষ্য হলেও ওয়াশিংটন শর্ত মেনে না নেয়া পর্যন্ত সচল হবে না প্রণালীটি। কূটনৈতিকভাবে সংকট সমাধানের পথ খোলা থাকবে। কিন্তু যেকোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন কিংবা আবার হামলা হলে মিলবে দাঁতভাঙা জবাব। নিষেধাজ্ঞা বা সামরিক পদক্ষেপে কোনো কাজ হবে না।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, ‘আশা করছি যে, যুক্তরাষ্ট্র প্রজ্ঞা ও যুক্তির পথ বেছে নেবে। কিন্তু দেশটি আবারও সামরিক পন্থায় গেলে আমরাও আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় যেকোনো পদক্ষেপ নিতে আগের চেয়ে আরও ভালোভাবে প্রস্তুত। দেশটি কূটনীতির পথ বেছে নিলে সেটিকেও স্বাগত জানাবো আমরা। অতীতে যুদ্ধ-কূটনীতি- দু'দিকেই হেরেছে যুক্তরাষ্ট্র।’
আরও পড়ুন:
ইরানের এমন অনড় অবস্থানে যেন আরও খেপে উঠছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ইসরাইলে নিযুক্ত মার্কিন সেনাবহর তিন গুণ বাড়ানোর পাশাপাশি যোগ করতে পারেন তৃতীয় বিমানবাহী রণতরী। ইরানকে আরও কোণঠাসা করতেই মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি জোরদারের মতো আগ্রাসী পদক্ষপ তার। হুঁশিয়ারি দিলেন, ইরান সহজ পদ্ধতিতে ধ্বংস করবেন, নাকি জটিল কোনো মাধ্যমে, শিগগিরই জানাবেন সে সিদ্ধান্ত।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘ইরানের বিষয়ে আমাকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ইরান নিশ্চিহ্নের পথে। ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পরিকল্পনা কার্যত ত্যাগ করছে। এখন প্রশ্ন একটাই- হয় সহজ পথ বেছে নিতে হবে, না হয় কঠিন পথ। আমরা সহজ পথ অথবা কঠিন পথ বেছে নেবো।’
এদিকে, কৌশলগত মজুত থেকে সম্প্রতি সাড়ে ৩২ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছেড়েছে বিভিন্ন দেশ, জানিয়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা আইইএ। মধ্যপ্রাচ্যের রপ্তানি বাড়ায় এরই মধ্যে যুদ্ধ পূর্ববর্তী অবস্থায় পৌঁছেছে তেলবাণিজ্য। ফলে বিশ্ববাজারে প্রায় এক শতাংশ কমেছে তেলের দাম।
ট্রাম্পের হুমকিতে আগামী চার মাসে শিল্পোন্নত দেশগুলো ধাপে ধাপে ১০ কোটি ব্যারেল তেল বাজারে ছাড়ার যে ঘোষণা দিয়েছে, সেটি কার্যকর শুরু হলে বাজার আরও স্থিতিশীল হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।




