মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, মধ্যস্থতাকারীরা সারাদিন মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধি দলের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করেছেন। ডোনাল্ড ট্রাম্পও এ আলোচনাকে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আখ্যা দিয়ে সমঝোতার আশা ব্যক্ত করেন। অন্যদিকে ইরানি গণমাধ্যমের খবরে নিশ্চিত করা হয়েছে, মার্কিন পক্ষের জোরালো অনুরোধে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, ওয়াশিংটনের সঙ্গে পুনরায় আলোচনা শুরু করতে এবং চুক্তি সম্পাদনে নিউ ইয়র্কে আসা তেহরানের প্রতিনিধি দলকে পূর্ণ ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের সামরিক চাপ কমায় এবং বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করে, তবে তারা সাত দিনের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করে দেবে। এছাড়া মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার, জব্দ করা ইরানি সম্পদ মুক্ত করা এবং তাদের মিত্রদের ওপর হামলা বন্ধের দাবিও জানিয়েছে তেহরান।
এই আলোচনার পেছনে কাতার ও পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। নিউ ইয়র্কে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে বৈঠক করেছেন কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান বিন জাসিম আল-খানি। সংঘাত হ্রাস এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য কাতার একটি নতুন প্রস্তাবনা দিয়েছে যা ইরান বর্তমানে পর্যালোচনা করছে। পাশাপাশি ওমানও লোহিত সাগর ও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।
এই পরোক্ষ আলোচনা এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হল, যার কয়েক ঘণ্টা আগেই জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে দেয়া ভাষণে ট্রাম্প ইরানকে পুরোপুরি ধ্বংস করার হুমকি দিয়েছিলেন। ট্রাম্পের ওই হুমকির জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর কেন্দ্রীয় সদর দফতর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, মার্কিন হুমকি তাদের কৌশলগত দুর্বলতার প্রমাণ এবং নতুন কোনো আক্রমণ চালানো হলে ইরান আরও কঠোর ও অপ্রত্যাশীত আঘাত হানবে।





