সামরিক সংঘাত আপাতত বন্ধ হলেও, হরমুজ ইস্যুতে বাকযুদ্ধ জারি রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র- ইরান। প্রায় প্রতিদিনই পারস্য উপসাগরের সরু জলপথটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পাল্টাপাল্টি দাবি করে আসছে দুই দেশ।
এরই ধারাবাহিকতায় নতুন করে ট্রাম্প দাবি করেছেন, হরমুজ পুরোপুরি পেন্টাগনের দখলে। মার্কিন বাহিনী জলপথটির তলদেশে পেতে রাখা সব মাইন অপসারণ করায় জাহাজ চলাচল পুরোপুরি সচল হয়েছে বলে দাবিও মার্কিন প্রেসিডেন্টের। পৃথক ভিডিও বার্তায় একই দাবি করেছেন মার্কিন সেনাবাহিনীর এক কর্মকর্তা।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্রাড কুপার বলেন, ‘হরমুজে বড় মাইলফলক অর্জন করেছি আমরা। জলপথটিতে আইআরজিসির পেতে রাখা সব মাইন সফলভাবে অপসারণ করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড।’
আরও পড়ুন:
তবে বরাবরের মতোই হরমুজ নিয়ে ট্রাম্পের দাবি অস্বীকার করেছে তেহরান। ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পসের দাবি, বিশ্ব জ্বালানির বাজার ক্রমাগত অস্থিতিশীল হওয়ায় এর দাম নিয়ন্ত্রণে হরমুজ নিয়ে মিথ্যাচার করছে ওয়াশিংটন। এছাড়াও, ইরানের দেয়া শর্ত যুক্তরাষ্ট্র মানলেই ফের হরমুজ সচল হবে বলেও আগের অবস্থানে অনড় ইসলামি প্রজাতন্ত্র। এর আগে অবশ্য ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান দাবি করেন, শর্তসাপেক্ষে হরমুজ খুলে দিতে একটি সমন্বিত পরিকল্পনায় সম্মত ওমান- ইরান ।
এদিকে, মার্কিন বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞা ও নৌ অবরোধের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ইরানের অর্থনীতিতে। শুক্রবার এক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান স্বীকার করেন, চলমান অস্থিরতায় ইরানের আমদানি- রপ্তানি বাণিজ্য ২৫ থেকে ৩৫ শতাংশ কমেছে।
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, ‘আমাদের আমদানি অপেক্ষা রপ্তানি বাণিজ্য বেশি লোকসান গুণছে। আমি এর বিশদ ব্যাখা দিতে চাই না। তবে যারা বলে বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার কোনো প্রভাব নেই, তাদেরকে ঠিক কী বলব তা আমার জানা নেই।’
তবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সৌদি আরব, আমিরাতসহ মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে উদ্যোগ নিচ্ছে তেহরান। অন্যদিকে, সামাজিক শৃঙ্খলা লঙ্ঘন করে এমন কর্মকাণ্ড রুখতে দেশবাসীকে ঐক্য ধরে রাখতে ফের আহ্বান জানিয়েছেন মোজতবা খামেনি।




