জাপানের চিবায় ভয়াবহ বন্যা; ভূমিধস ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সতর্কতা

জাপানের চিবায় ভয়াবহ বন্যা; ভূমিধস ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সতর্কতা
জাপানের চিবায় ভয়াবহ বন্যা; ভূমিধস ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সতর্কতা | ছবি: আরব নিউজ
0

পূর্ব জাপানে ‘নজিরবিহীন’ ভারী বৃষ্টিতে অন্তত চারজন প্রাণ হারিয়েছেন। এই দুর্যোগে নারিতা বিমানবন্দরে হাজার হাজার যাত্রী সারা রাত আটকে ছিলেন। এছাড়া সড়ক ও ট্রেন চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটেছে বলে আজ (শুক্রবার, ১৪ আগস্ট) জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। আরব নিউজের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

গতকাল (বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট) শেষ রাতে শুরু হওয়া এই মুষলধারে বৃষ্টির কারণে ভূমিধস ও বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদেরা প্রথমবারের মতো চিবা অঞ্চলে সর্বোচ্চ পর্যায়ের ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছেন। এএফপির এক সাংবাদিক জানিয়েছেন, চিবার গ্রামীণ এলাকাগুলোতে নিচু সড়কে ডজন ডজন গাড়ি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

নারিতা বিমানবন্দরে যাত্রীরা টার্মিনালের বিভিন্ন জায়গায় স্লিপিং ব্যাগে ঘুমিয়ে সময় কাটিয়েছেন। চেক-ইনের জন্য পুরো বিমানবন্দর জুড়ে ছিল যাত্রীদের বিশাল সারি। যুক্তরাজ্য থেকে আসা ফিলিপ নামের এক যাত্রী এএফপিকে বলেন, ট্যাক্সিতে ভ্রমণসহ প্রায় ৯ ঘণ্টার যাত্রা শেষে শুক্রবার সকালে তিনি বিমানবন্দরে পৌঁছাতে পেরেছেন। হাতে স্লিপিং ব্যাগ নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি শুধু ঘুমানোর চেষ্টা করছি আর নেটফ্লিক্স দেখছি। এই ঝামেলা মেনে নেয়া ছাড়া আর কিছুই করার নেই।’

চিবা প্রশাসনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যালয় জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে ৬০ বা ৭০-এর কোঠায় বয়সের এক ব্যক্তিকে প্লাবিত সড়কে ভাসতে দেখা গেছে। এ ছাড়া ৬৬ বছর বয়সী এক নারী তার পানিতে ডুবে যাওয়া গাড়ির ভেতরে আটকে ছিলেন। তৃতীয় নিহত ব্যক্তির বয়স নিশ্চিত হওয়া যায়নি; তিনি সড়কে লুটিয়ে পড়েছিলেন। চতুর্থ নিহতের লিঙ্গ ও বয়সও জানা যায়নি। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে জানিয়েছে, মৃতের সংখ্যা আটজন পর্যন্ত হতে পারে। এই দুর্যোগে চিবা প্রশাসনের প্রায় ২৬ হাজার পরিবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।

ইচিকাওয়া, কাশিওয়া ও সাকুরার মতো শহরগুলোতে ৪৫টি বাড়ি প্লাবিত হয়েছে। আরও ৩৯টি বাড়ির মেঝের নিচ দিয়ে পানি ঢুকেছে। বিমানবন্দরে আটকা পড়া এক যাত্রী এনএইচকে-কে বলেন, ‘বিমানবন্দরে রাত কাটাব ভাবতেই পারিনি। কিন্তু যা ঘটেছে, তার সঙ্গে খাপ খাইয়ে চলা শিখছি। এই ভ্রমণের কথা আমরা কখনোই ভুলব না।’

ট্রেন চলাচল বন্ধ
জাপানের আবহাওয়া সংস্থার (জেএমএ) এক কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বৃষ্টিপাত ‘নজিরবিহীন পর্যায়ে’ পৌঁছাতে চলেছে। টোকিওর অন্যতম প্রধান দুটি বিমানবন্দরের একটি নারিতায় সারা রাতে প্রায় ৬ হাজার যাত্রী আটকা পড়েন। শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত সেখান থেকে বহু ট্রেনের যাতায়াত বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছে চিবা দুর্যোগ কার্যালয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহারকারীরা জানিয়েছেন, বিমানবন্দরের কর্মীরা বিনা মূল্যে পানি, খাবার ও স্লিপিং ব্যাগ বিতরণ করেছেন। ট্রেন চলাচল স্থগিত থাকায় চিবা স্টেশনেও শত শত মানুষ আটকা পড়েন বলে এএফপির এক সাংবাদিক জানিয়েছেন। এনএইচকে জানিয়েছে, চিবার আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে শত শত মানুষ রাত কাটিয়েছেন। ভিডিওতে দেখা গেছে, কাশিওয়া শহরে গাড়িগুলো হেডলাইট পর্যন্ত পানিতে ডুবে গেছে। বৃহস্পতিবার এনএইচকে-কে চিবার ইচিকাওয়া শহরের এক নারী বলেন, ‘এটি হঠাৎ করে ঘটলো, তাই পুরোপুরি চমকে গিয়েছি। বিদ্যুৎ নেই, তাই আগামী কয়েক দিন আমার ব্যবসা খুলতে পারব কি না তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।’

শুক্রবার সকালের মধ্যেই পাঁচ মাত্রার সব ভারী বৃষ্টির সতর্কতা কমিয়ে চার মাত্রায় নামিয়ে আনা হয়েছে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই চরম আবহাওয়া আরও ঘন ঘন, দীর্ঘায়িত ও তীব্র হয়ে উঠছে।

এএম