মার্কিন বাণিজ্য ও উৎপাদন নীতি কার্যালয় (অফিস অব ট্রেড অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারিং পলিসি) তাদের প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ‘গ্রেট ট্রান্সশিপমেন্ট স্ক্যাম’ নামে পরিচিত এই কারবারে চীনের সবচেয়ে বড় সহযোগীদের মধ্যে রয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), মেক্সিকো, কানাডা, ভারত, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া। বাণিজ্যনীতি কার্যালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও কম্বোডিয়ার মতো দেশগুলোও এই নেটওয়ার্কে ‘গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা’ পালন করছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই কারবারে যুক্তরাষ্ট্রের যেসব উৎপাদন খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, সেগুলোর মধ্যে আছে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট, অ্যালুমিনিয়াম পণ্য ও মোটরযানের যন্ত্রাংশ।
ট্রাম্পের নিযুক্ত পিটার নাভারোর নেতৃত্বাধীন এই কার্যালয় প্রতিবেদনে বলেছে, ‘এই ‘গ্রেট ট্রান্সশিপমেন্ট স্ক্যামে’ হারানো প্রতিটি ডলার আসলে মার্কিন শ্রমিক, উৎপাদক ও করদাতাদের কাছ থেকে চুরি করা।’ কর্মঘণ্টার বাইরে পাঠানো মন্তব্যের অনুরোধে ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাস তাৎক্ষণিক সাড়া দেয়নি। প্রতিবেদনে যেসব দেশের নাম এসেছে, তারাও প্রকাশ্যে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
কড়া হুঁশিয়ারি ওয়াশিংটনের
এই ধরনের ‘ট্রান্সশিপমেন্টে’ সহায়তা করা দেশগুলোকে হুঁশিয়ার করে দিয়ে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, নজরদারি জোরদার করতে সীমান্তরক্ষী কর্তৃপক্ষ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে চালানের তথ্য ও অন্যান্য উপাত্ত সমন্বয় করেছে। বাণিজ্য কার্যালয় বলেছে, ‘বিশ্বের প্রতি বার্তা সহজ। অজ্ঞাত অবৈধ ট্রান্সশিপমেন্টের যুগ শেষ।’ কার্যালয়ের ভাষায়, ‘একসময় যা কেবলই নীরব কাগজপত্রের চালাকি মনে হতো লেবেল বদলে দেয়া, পুনরায় প্যাকেট করা, নতুন করে চালান তৈরি তা এখন অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় ইচ্ছাশক্তির প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
গত বছরের জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকে একের পর এক সংরক্ষণবাদী বাণিজ্যনীতি নিয়ে বৈশ্বিক বাণিজ্যে ঝাঁকুনি দিয়েছেন ট্রাম্প। সবশেষ বাণিজ্য পদক্ষেপে, জোরপূর্বক শ্রমের প্রতি চোখ বন্ধ করে থাকার অভিযোগ তুলে ডজন ডজন দেশের পণ্য আমদানির ওপর ১০ থেকে ১২.৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া ও কলোরাডোসহ ২৫টি ডেমোক্র্যাট-নেতৃত্বাধীন অঙ্গরাজ্যের একটি জোট আদালতে এই শুল্কের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেছে, ট্রাম্পের ‘লিবারেশন ডে’ শুল্ক পুনরায় আরোপের অজুহাত হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ফেব্রুয়ারিতে ‘লিবারেশন ডে’ শুল্ক বাতিল করেছিল মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট।
ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সিঙ্গাপুরের অধ্যাপক ও বাণিজ্য বিশ্লেষক অমিতেন্দু পালিত হোয়াইট হাউসের এই প্রতিবেদনকে মার্কিন পণ্যের জন্য বাজারে বৃহত্তর প্রবেশাধিকার আদায়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি আল জাজিরাকে বলেন, ‘লিবারেশন ডে শুল্কের বৈধতা হারানোর অর্থ হলো ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বিশাল ক্ষতি—শুল্ক ফেরত দেয়ার ক্ষেত্রে এবং বিশ্বাসযোগ্যতার দিক থেকেও। এ কারণেই তারা বাজারে প্রবেশাধিকারকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের আরও ‘নতুন নতুন’ কৌশল খুঁজছে। এটি বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহার সীমিত করতে না পারার অভিযোগ এনে আগে আরোপ করা সেকশন ৩০১ শুল্কেরই ধারাবাহিকতা।’





