চট্টগ্রামে ভিনদেশিদের ভিড়ে বাড়ছে অপরাধের দৌরাত্ম্য!

চট্টগামে বিদেশিদের ভিড়ে ঢুকে পড়ছে অপরাধীচক্রের সদস্যরাও
চট্টগামে বিদেশিদের ভিড়ে ঢুকে পড়ছে অপরাধীচক্রের সদস্যরাও | ছবি: এখন টিভি
0

চট্টগ্রাম বন্দর ঘিরে বাড়ছে বিদেশি বিনিয়োগ ও বিদেশি নাগরিকের উপস্থিতি। বিভিন্ন প্রয়োজনে চট্টগ্রামে বসবাস করছেন ৩৬ দেশের ২ হাজারের বেশি নাগরিক। বৈধভাবে আসা-যাওয়া করা এসব বিদেশির ভিড়ে রয়েছে সংঘবদ্ধ অপরাধীচক্রের সদস্যরাও। সম্প্রতি ৮০ বিদেশি নাগরিককে ধরার পর তদন্তে জানা গেছে, এরা চট্টগ্রাম বসেই বৈশ্বিক জুয়ার আসর পরিচালনা করতেন। প্রশ্ন উঠেছে, বিদেশিদের হালনাগাদ তথ্যভান্ডার, বাসা ভাড়া ও হোটেলে অবস্থানের তথ্য সংরক্ষণ— এসব ব্যবস্থায় কোথায় ঘাটতি ছিলো?

চট্টগ্রাম দেশের আমদানি-রপ্তানির প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। সমুদ্র উপকূল, সেন্টমার্টিন দ্বীপ আর পার্বত্য অঞ্চল নিয়ে একটি স্পর্শকাতর অঞ্চল। এ অঞ্চলে রয়েছে নানা অবকাঠামো। যার স্থাপত্য তৈরি, প্রকৌশল ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তির দায়িত্বে বিদেশি নাগরিকরা। গত এক দশকে এখানে বেড়েছে অসংখ্য বিদেশি বিনিয়োগ। আর বিনিয়োগ ঘিরে চট্টগ্রামে বাড়ছে বিদেশিদের উপস্থিতিও। এর মধ্যে চীন, ভারত, শ্রীলংকা, থাইল্যান্ডের নাগরিকের সংখ্যাই বেশি।

পুলিশের হিসাবে, বর্তমানে চট্টগ্রামে বসবাস করছে ৩৬ দেশের ২ হাজার ২৬৯ নাগরিক। যার ৯৭৭ জন চাকুরি ও ১ হাজার ২৯২ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ৩১০ জন আছেন চট্টগ্রাম ইপিজিডের বিভিন্ন কারখানায়। এছাড়া এশিয়ান উইমেন বিশ্ববিদ্যালয়েও আছেন শিক্ষার্থীরা।

চট্টগ্রাম ওয়াসার চীনা প্রকৌশলী জেমস বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ আমাদের প্রতি খুবই বন্ধুসুলভ। বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য কিছু করতে পেরে আমরাও বেশ খুশি। আশা করছি, বাংলাদেশের পরিবেশ পরিস্থিতিতে আরও বেশি সচেতনতা বাড়বে।’

এসব বিদেশির ভিড়ে ঢুকে পড়ছে অপরাধীরাও। সম্প্রতি ৮০ জন বিদেশি নাগরিক ধরা পড়ে জুয়ার সরঞ্জামসহ। যাদের রিমান্ডে নিলে জানা যায়, পর্যটক পরিচয়ে প্রবেশ করে এরা বসবাস করছিলো দীর্ঘদিন।

আরও পড়ুন:

পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট জানায়, ধরা পড়া বিদেশিরা সাইবার ক্রাইম এক্সপার্ট। তারা বৈশ্বিক জুয়ার আসর পরিচালনা করতো। আইন অনুযায়ী, বিদেশিদের সংখ্যা বা কাজের ধরন নানা জায়গায় হালনাগাদ থাকার কথা। বিদেশিকে বাসা ভাড়া, হোটেলে অবস্থানের ক্ষেত্রেও পুলিশকে তালিকা দেয়ার নিয়ম। অথচ তাদের অবস্থান জানা ছিলো না আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর।

কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের এডিসি মাঈনুল ইসলাম আকাশ বলেন, ‘অবশ্যই তারা তাদের পাসপোর্ট এনশিওর করবেন। তারা কী উদ্দেশে এখানে এসেছেন, তারা কোন দেশের নাগরিক— এই বিষয়গুলোতে আরও বেশি সচেতন হয়ে যাতে তারা তথ্যগুলো নেন এবং আমাদেরও যেন ইনফর্ম করেন। কারো কাছে যদি কোনো কিছু বা তাদের কার্যক্রম সন্দেহের মনে হয়, যেমন— তারা কারও সঙ্গে মিশছেন না বা এদের সঙ্গে যোগাযোগ করাটা সংরক্ষিত; এরকম দেখা গেলে অবশ্যই সেটা থানায় তারা জানাবেন।’

পুলিশ কমিশনার জানান, তদন্তে বিদেশিদের সঙ্গে বাংলাদেশি একটি বড় চক্রের জড়িত থাকার প্রমান মিলেছে। আটক বিদেশিদের পাসপোর্ট দেশিয় সিন্ডিকেটের কাছে থাকায় উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসান মোহাম্মদ শওকত আলী বলেন, ‘নজরদারি দুই রকমের হতে পারে। একটা হলো তাদের নিরাপত্তার বিষয়, আরেকটা হলো তাদের ভেতরে কেউ অপরাধমূলক কোনোকিছুতে জড়িত হয়ে পড়ছেন কি না বা কেউ ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থায় আছেন কি না। এই কার্যক্রমটাকে আমরা এরই মধ্যে বেশ জোরদার করেছি, যাতে নতুন কেউ আসলে সেই তথ্যটা আমাদের ডাটাবেজে থাকে এবং পরবর্তীতে কোনো ঘটনা ঘটলে তথ্যগুলো খুব সহজেই পাই।’

একইসঙ্গে চট্টগ্রামসহ সারা দেশে বিদেশিদের সন্দেহজনক আচরণ দেখলে পুলিশকে জানানো ও বাড়ি ভাড়া দিলে সে তথ্য জমা দেয়ার পরামর্শও পুলিশের।

এসএইচ