কয়েকদিনের টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে ভারতের আসাম রাজ্য। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে রাজ্যের ৭টি জেলা। রাজ্যের বেশিরভাগ নদীর পানি এখনও বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যা বন্যার ঝুঁকিকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
এরইমধ্যে বন্যায় প্রাণ হারিয়েছে প্রায় ৮০ জন। কিছু জায়গায় পানি কমতে শুরু করলেও প্রতিদিনই বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। পানির নিচে তলিয়ে গেছে ২১ হাজার হেক্টরের বেশি ফসলি জমি। বন্যার কবলে সাড়ে ৫শ' গ্রামের ৩ লাখের বেশি বাসিন্দা। লম্বা সময় ধরে জলাবদ্ধতার কারণে ছড়াচ্ছে নানা রোগবালাই। আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেয়া হয়েছে বহু মানুষকে।
বন্যা কবলিত জেলাগুলোর জন্য ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে স্থানীয় প্রশাসন। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে ১৫ হাজার রুপি করে আর্থিক সহায়তা দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেক অঞ্চলে পৌঁছানো যাচ্ছে না জরুরি ত্রাণ সহায়তা।
এদিকে, ভারতের দিল্লি, মহারাষ্ট্র, উত্তর প্রদেশ, বিহারসহ বেশ কয়েকটি রাজ্যে ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রসহ ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে দেশটির আবহাওয়া সংস্থা। বেশ কয়েকটি অঞ্চলে জারি রয়েছে হলুদ সতর্কতা। বঙ্গোপসাগরে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় আগামী শনিবার পর্যন্ত এসব অঞ্চলে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।
এরইমধ্যে রাজধানী নয়াদিল্লিতে প্রবল বৃষ্টিতে শহরজুড়ে দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা। শহরের রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় দেখা দিয়েছে তীব্র যানজট। চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন দিল্লিবাসী। এছাড়া, নয়ডা, গুরগাঁও এবং গাজিয়াবাদসহ আশপাশের বেশ কয়েকটি শহরে দমকা হাওয়ার সঙ্গে বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
তেলেঙ্গানা রাজ্যের নয়টি জেলা জারি করা হয়েছে কমলা সতর্কতা। আগামী ২৪ ঘণ্টায় হায়দ্রাবাদে বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। একই অবস্থা ভারতের মহারাষ্ট্রেও। ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনায় মুম্বাই শহরে জারি রয়েছে হলুদ সতর্কতা।





