সংঘাত পুনরায় শুরু হওয়ায় উপসাগর থেকে জ্বালানি সরবরাহ আবারও বন্ধ হয়ে গেছে। এর মধ্যেই হরমুজ প্রণালির কাছে একটি ট্যাংকারে অবতরণ করেছে মার্কিন মেরিন সেনারা। ইরানি সংবাদমাধ্যম ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডসের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, প্রণালির দক্ষিণে মাইন পেতে রাখা একটি পথ অতিক্রমের পর দুটি তেল ট্যাংকারে বিস্ফোরণ ঘটে আগুন ধরে যায়। তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী এই প্রতিবেদনকে ভুয়া বলে অভিহিত করেছে।
এদিকে ইয়েমেন উপকূলের কাছে সশস্ত্র ব্যক্তিরা আরও একটি জাহাজ দখল করেছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের তেল রপ্তানির অন্যতম বৃহৎ প্রবেশদ্বার লোহিত সাগরের মুখে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন রেভল্যুশনারি গার্ডসের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের ‘আগ্রাসন’ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই অঞ্চল থেকে রাসায়নিক সার কিংবা ‘এক ফোঁটা তেল বা গ্যাসও’ রপ্তানি করা সম্ভব হবে না।
গার্ডস পরে জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে প্রণালি অতিক্রম করার চেষ্টা করা চারটি ‘নিয়ম-লঙ্ঘনকারী’ জাহাজকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের সম্মিলিত অভিযানের মাধ্যমে থামিয়ে দেয়া হয়েছে।
গত সপ্তাহে যুদ্ধবিরতি চুক্তি ভেঙে পড়ার পর থেকেই ওয়াশিংটন ও তেহরান উত্তেজনার সীমা যাচাই করছে। এতে সর্বাত্মক যুদ্ধে ফিরে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
আরও পড়ুন:
শুক্রবার এই উত্তেজনা বৃদ্ধির খবর প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ৩ শতাংশ বেড়েছে এবং টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো এটি প্রবৃদ্ধির পথে রয়েছে। নভেম্বরের কংগ্রেস নির্বাচনের আগে এই পরিস্থিতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর রাজনৈতিক চাপ বাড়াচ্ছে।
ইরানের অবকাঠামোয় ব্যাপক বিমান হামলার হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। এমনকি দেশটির উপকূল বা দ্বীপে স্থল অভিযান চালানোর সম্ভাবনাও তিনি উড়িয়ে দেননি। মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, দক্ষিণ ইরানে হামলাগুলোর একটি লক্ষ্য হলো ট্রাম্পের হাতে বিভিন্ন বিকল্প তৈরি করে দেয়া।
তবে এসব পদক্ষেপ ইরানকে ঝুঁকিতে থাকা উপসাগরীয় দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোয় আঘাত হানতে উসকে দিতে পারে। অথবা ইয়েমেনের মিত্র বাহিনীর মাধ্যমে লোহিত সাগর দিয়ে জাহাজ চলাচলে হামলা চালিয়ে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহকে আরও ব্যাহত করতে পারে।
ইরানি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার ভোরে হরমুজ প্রণালির ইরানি অংশের উপকূলীয় হরমোজগান প্রদেশে শত্রুপক্ষের হামলা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, এতে তিনজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি দুটি সেতু ও একটি সড়ক সুড়ঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা মোহসেন রেজায়ি শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রকে উত্তেজনা বৃদ্ধি অথবা ইরানের ভূখণ্ড দখলের যেকোনো চেষ্টার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন।





