৬ দিনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ঈমাম রেজার মাজারে চিরনিদ্রায় শায়িত আয়াতুল্লাহ খামেনি

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ছবি হাতে একজন
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ছবি হাতে একজন | ছবি: সংগৃহীত
0

৬ দিনের আনুষ্ঠানিকতা শেষে কোটি কোটি অনুসারীকে কাঁদিয়ে জন্মস্থান মাশহাদে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। সেখানে সবশেষ জানাজার পর শুধু পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে ঈমাম রেজার মাজারে সমাহিত করা হয়েছে তাকে। এর আগে, খামেনির শেষ শোকযাত্রায় ঢল নামে লাখ লাখ মানুষের। অশ্রুসজল চোখে, স্লোগানে স্লোগানে প্রজাতন্ত্রের অন্যতম কিংবদন্তীকে বিদায় জানিয়েছেন অনুসারীরা।

যুদ্ধ কবলিত দেশেও রচিত হলো ইতিহাস। ৬ দিনের ঐতিহাসিক শেষ বিদায় অনুষ্ঠানের পর লাখ লাখ মানুষের শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা নিয়ে জন্মস্থান মাশহাদে চির নিদ্রায় শায়িত হলেন ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।

সর্বোচ্চ নেতাকে দাফনের আগে জনসমুদ্র পরিণত হয় স্বর্ণ গম্বুজবিশিষ্ট পবিত্র ইমাম রেজার মাজার প্রাঙ্গণ। অশ্রুসজল চোখে, স্লোগানে স্লোগানে কিংবদন্তীকে শেষ বিদায় জানান অনুসারীরা।

এদিন, ইরাকের কারবালা শহর থেকে বিমানে করে ইরানে ফেরত আনা হয় খামেনির মরদেহ। এরপর দীর্ঘ বিলম্বের পর শবযানে করে জন্মস্থান মাশহাদ শহরে আনা হয় আয়াতুল্লাহ খামেনির কফিন। মাশহাদে ঈমাম রেজার মাজার পর্যন্ত ঐতিহাসিক শোকযাত্রায় অংশ নেন অগণিত মানুষ।

প্রিয় নেতার কফিন একবার ছুঁয়ে দেখার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠেন অনুসারীরা। অভিযোগ করেন, দাফন ব্যাহত করতে মাশহাদের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা গুড়িয়ে দিতে চেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র।

আরও পড়ুন:

খামেনির শেষ বিদায়ের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের হামলার কারণে পিছিয়ে দেয়া হয় এই শোকযাত্রার সময়। তবুও ঠেকানো যায়নি প্রজাতন্ত্রের অনুসারীদের। শোকযাত্রার মধ্যেই, খামেনির জন্য জয়ধ্বনি আর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল বিরোধী স্লোগানে কেঁপে ওঠে চারপাশ। লাল পতাকায় ছেয়ে যায় পুরো প্রাঙ্গণ। খামেনি হত্যার বদলা নেয়ার বার্তা ছিল পতাকায়।

এরপর পবিত্র মাশহাদ শহরের ঈমাম রেজার মাজারে এসে শেষ হয় শোকযাত্রা। মাজারের মধ্যে নেয়া হয় সর্বোচ্চ নেতার কফিন। এসময় অনুসারীদের অবস্থান নিতে হয়েছে মাজারের বাইরে। দাফনের সময় পরিবার আর শীর্ষ কয়েকজন নেতা ছাড়া কাউকেই ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়নি। নিরাপত্তাজনিত কারণে উপস্থিত হতে পারেননি বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা ও খামেনি পুত্র মোজতবা খামেনি। যা নিয়ে বেশ বিতর্ক তৈরি হয়েছে নানা মহলে। আর, খামেনির শাসনব্যবস্থায় ক্ষুব্ধ অনেক সংস্কারপন্থী এই আয়োজনে অংশ নেয়া থেকে বিরত থেকেছেন।

এরপর পবিত্র মাজারেই অনুষ্ঠিত হয় সর্বোচ্চ নেতার সবশেষ জানাজা। দোয়া করতে গিয়েও কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন তার অনুসারীরা। জানাজার দোয়া পড়িয়েছেন ১০১ বছর বয়সী আয়াতুল্লাহ হোসেইন নুরি হামেদানি। ১৯২৫ সালে জন্মগ্রহণকারী হামেদানি প্রজাতন্ত্রের অন্যতম শীর্ষ ধর্মীয় নেতা।

শুধু ইরান ও ইরাক নয় লেবাননের হাজার হাজার মানুষ শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছেন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে। সশরীরে উপস্থিত হতে না পারলেও মুসলিম বিশ্বের কাণ্ডারির জন্য তাদের ভালোবাসার কমতি ছিলনা। খামেনির বিদায় উপলক্ষে লেবাননের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বক্তব্য দিয়েছেন হিজবুল্লাহ প্রধান।

ইএ