প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাশিয়ার কমসোমলস্ক-অন-আমুর এভিয়েশন প্ল্যান্টে বিমানগুলো তৈরি হয়েছে। হস্তান্তরের আগে রাশিয়াতেই থাকা এসব বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বহন করছে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।
প্রায় ১ হাজার ৬০০ কিলোমিটার যুদ্ধ পাল্লার সু-৩৫ শত্রুর ভূখণ্ডের গভীরে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। ছোট বা অস্থায়ী রানওয়ে থেকে ওড়ার সক্ষমতা থাকায় এটি বড় বিমানঘাঁটির ওপর কম নির্ভরশীল। লকহিড মার্টিনের এফ-৩৫ বা চীনের জে-১৬-এর মতো উন্নত না হলেও সু-৩৫ এখনো বিশ্বের সবচেয়ে বেশি যুদ্ধ-পরীক্ষিত আধুনিক যুদ্ধবিমানগুলোর একটি।
২০২৫ সালের শেষদিকে ফাঁস হওয়া রুশ সরকারি নথিতে দেখা গেছে, ইরান মোট ৪৮টি সু-৩৫ যুদ্ধবিমানের অর্ডার দিয়েছে। ২০২৩ সালে রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে সম্পাদিত প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় ১৯৯০-এর দশকের পর ইরান প্রথমবারের মতো যুদ্ধবিমান কিনছে। চুক্তিতে সু-৩৫ ছাড়াও মিল এমআই-২৮ আক্রমণকারী হেলিকপ্টার এবং ইয়াকভলেভ ইয়াক-১৩০ প্রশিক্ষণ বিমানও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন বহর পরিচালনার জন্য পাইলটদের প্রস্তুত করা শুরু করেছে ইরান। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ইয়াক-১৩০ প্রশিক্ষণ বিমান সরবরাহ শুরু হয়, যা ভবিষ্যতে সু-৩৫ পরিচালনার জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচির অংশ বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০২৬ সালে ইরানে সু-৩৫ সরবরাহ শুরু হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। তবে কিছু সূত্রের মতে, হামাদান বিমানঘাঁটির অবকাঠামোগত ক্ষতি এই মোতায়েনে বিলম্ব ঘটাতে পারে।
রাশিয়া থেকে ইরানের সামরিক সংগ্রহ সু-৩৫ কর্মসূচির বাইরেও বিস্তৃত। জুন মাসে রুশ সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, তেহরান ১২টি সু-৩০এসএম২ যুদ্ধবিমানের অর্ডারও দিয়েছে। ২০২৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে সরবরাহ শুরু হতে পারে। এছাড়া ইরান রাশিয়ার পঞ্চম প্রজন্মের স্টেলথ যুদ্ধবিমান সু-৫৭ কেনার চেষ্টাও চালাতে পারে বলে কিছু প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
স্নায়ুযুদ্ধের পর ইরানের প্রথম যুদ্ধবিমান সংগ্রহ বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, এখনো দেশটি গ্রুম্যান এফ-১৪এ টমক্যাট, ম্যাকডোনেল ডগলাস এফ-৪ ফ্যান্টম এবং নর্থরপ এফ-৫ টাইগারের মতো স্নায়ুযুদ্ধকালীন পুরোনো যুদ্ধবিমান ব্যবহার করছে। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের আগে কেনা এসব পশ্চিমা যুদ্ধবিমান রক্ষণাবেক্ষণ কঠিন হয়ে পড়েছে। ১৯৯০-এর দশকে রাশিয়া থেকে মিগ-২৯ কেনার মধ্য দিয়েই সর্বশেষ বড় ধরনের যুদ্ধবিমান সংগ্রহ করেছিল ইরান।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সু-৩৫ যুদ্ধবিমান হাতে এলে ইরানের আকাশশক্তি অনেকখানি বাড়বে এবং মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে দূরপাল্লার অভিযান পরিচালনার সক্ষমতাও প্রসারিত হবে।





