আগস্টে জ্বালানি তেল উৎপাদন আরও বাড়াবে ওপেক প্লাস

ওপেক প্লাস
ওপেক প্লাস | ছবি: সংগৃহীত
0

আগস্ট থেকে তেল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা আরও বাড়াতে সম্মত হতে যাচ্ছে ওপেক প্লাস। আজ (রোববার, ৫ জুলাই) এই সংক্রান্ত একটি সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে জোটটির চিন্তাভাবনা সম্পর্কে অবহিত সূত্রগুলো জানিয়েছে। তেল রপ্তানির জন্য হরমুজ প্রণালি ধীরে ধীরে পুনরায় খুলে দেয়ায় বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম কমতে শুরু করেছে; এই পরিস্থিতিতেই সরবরাহ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আসছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

তেল উৎপাদনকারী এই জোট রোববার অনলাইন বৈঠকে বসার আগেই দৈনিক ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল কোটা বাড়ানোর ব্যাপারে নীতিগতভাবে সম্মত হয়েছে বলে দুটি সূত্র জানিয়েছে। জুন ও জুলাই মাসেও একই পরিমাণ কোটা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছিল। রাশিয়াসহ ওপেক ও এর মিত্র উৎপাদকদের নিয়ে গঠিত ওপেক প্লাসের সাতটি মূল সদস্য দেশ এপ্রিল থেকে জুলাই পর্যন্ত সময়ে দৈনিক প্রায় ৮ লাখ ব্যারেল উৎপাদন কোটা বাড়িয়েছে।

উৎপাদন পুনরুদ্ধার শুরু
তবে এই বৃদ্ধির বেশিরভাগটাই কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ ছিল। কারণ, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যুদ্ধের কারণে সৌদি আরব, কুয়েত ও ইরাকের মতো ওপেক প্লাসের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য দেশগুলোর ট্যাংকার চলাচলের প্রধান পথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

ওপেকের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে ওপেক প্লাসের দৈনিক উৎপাদন ছিল ৪ কোটি ২৭ লাখ ৭০ হাজার ব্যারেল। মে মাসে তা কমে ৩ কোটি ৩১ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেলে নেমে আসে। সংযুক্ত আরব আমিরাত ও অন্যান্য ওপেক প্লাস দেশকে বেশি তেল রপ্তানিতে সহায়তা করার মার্কিন প্রচেষ্টার ফলে জুন মাস থেকে উৎপাদন কিছুটা পুনরুদ্ধার হতে শুরু করেছে। তবে এখনো তা যুদ্ধপূর্ব পর্যায়ের নিচে রয়েছে।

সরবরাহে বিঘ্ন অব্যাহত থাকলেও তেলের দাম যুদ্ধপূর্ব পর্যায়ে ফিরে এসেছে। চীনের আমদানি কমে যাওয়া, মধ্যপ্রাচ্যের বাইরের উৎপাদকদের রপ্তানি বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) সমন্বয়ে রেকর্ড কৌশলগত মজুত ছাড় দেয়ার কারণে দামে চাপ পড়েছে। যুদ্ধ বন্ধে সই হওয়া সমঝোতা স্মারক ব্যবসায়ীদের আশ্বস্ত করেছে যে সরবরাহ শেষ পর্যন্ত স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসবে।

উচ্চ কোটার জন্য ইরাকের চাপ
শুক্রবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম প্রায় ৭২ ডলার প্রতি ব্যারেলে লেনদেন হচ্ছিল। সাম্প্রতিক সময়ে এই দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারেরও বেশি উঠেছিল। বর্তমানে ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার আগের পর্যায়েই তা ফিরে এসেছে।

উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের পাশাপাশি ওপেক প্লাস কিছু নতুন চ্যালেঞ্জেরও মুখোমুখি। সংযুক্ত আরব আমিরাত জোট ছেড়ে দেয়ায় এবং ইরাক উচ্চ কোটার দাবি জানানোয় জটিলতা বেড়েছে। সৌদি আরব, রাশিয়া, ইরাক, কুয়েত, আলজেরিয়া, কাজাখস্তান ও ওমান—এই সাত দেশ ২০২৩ সালে সম্মত হওয়া দৈনিক ১৬ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল সরবরাহ হ্রাসের ধাপে ধাপে প্রত্যাহারের অংশ হিসেবে উৎপাদন বাড়াচ্ছে। ওই সময় জোটে সংযুক্ত আরব আমিরাতও ছিল।

উৎপাদন সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্ত থেকে নিজেদের সক্ষমতার সঙ্গে উৎপাদনকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে চাওয়ায় গত এপ্রিলের শেষে জোট ছেড়ে দেয় সংযুক্ত আরব আমিরাত। রয়টার্সের হিসাব অনুযায়ী, ১ মে থেকে আমিরাতের বিদায় বিবেচনায় নিলে আগস্ট থেকে বাকি সাত দেশের হাতে বাজারে ফিরিয়ে আনার মতো আরও দৈনিক প্রায় ৩ লাখ ৭৯ হাজার ব্যারেল তেল রয়েছে। বর্তমান গতিতে উৎপাদন বাড়ানো অব্যাহত রাখলে সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ পুরো সরবরাহ হ্রাস পুরোপুরি প্রত্যাহার হয়ে যাবে।

এএম