দুর্ঘটনার এক সপ্তাহ পরেও অজানা বেইজিংয়ে বিমান বিধ্বস্তের কারণ

বেইজিংয়ে বিমান বিধ্বস্তের ছবি
বেইজিংয়ে বিমান বিধ্বস্তের ছবি | ছবি: সংগৃহীত
0

দুর্ঘটনার ১ সপ্তাহ পার হতে চললেও এখনও জানা যায়নি চীনের বেইজিংয়ের সবচেয়ে উঁচু ভবনে বিমান বিধ্বস্তের প্রকৃত কারণ। এমনকি চীনা সামাজিক মাধ্যম থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে ১০৯ তলা ঐ টাওয়ারের ভিডিও এবং ছবি। সবচেয়ে রহস্যজনক বিষয়, স্থায়ী নো-ফ্লাই জোন ঘোষণার পরেও কীভাবে বেইজিংয়ের রাজনৈতিক এলাকায় প্রবেশ করলো উড়োজাহাজটি উত্তর মেলেনি এ প্রশ্নেরও।

২৬ জুন ২০২৬। স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিটে চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের সবচেয়ে উঁচু ভবন সিআইটিআইসি টাওয়ারে বিধ্বস্ত হয় এক-ইঞ্জিন ও দুই আসনের একটি ছোট উড়োজাহাজ। ঘটনাস্থলেই মারা যান পাইলট, আহত হন বেশ কয়েকজন।

এ ঘটনার সপ্তাহ পার হতে চললেও এখনও স্পষ্ট হয়নি কেন এবং কীভাবে বেইজিংয়ের সর্বোচ্চ স্কাইস্ক্র্যাপার ও বিশ্বের দশম সর্বোচ্চ ভবনটিতে আছড়ে পড়লো উড়োজাহাজটি। বরং গোপনীয়তা নীতির কারণে, চীনের মূল সংবাদমাধ্যমে সামান্যই প্রচার করা হয়েছে এই খবর। এমনকি চীনের সামাজিক মাধ্যম থেকেও মুছে ফেলা হয়েছে ১০৯ তলা বিশিষ্ট সিআইটিআইসি টাওয়ার সংক্রান্ত পুরানো পোস্ট, মিম ইত্যাদি। ইন্টারনেটে সহজে পাওয়া যাচ্ছে না দুর্ঘটনার ভিডিও ফুটেজও।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বেইজিং ডেইলিতে প্রকাশিত ৬০ শব্দের একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি ছাড়া এ নিয়ে উচ্চবাচ্য করেনি চীনা সরকার। বিমান বিধ্বস্তের পর ভবনটি সাময়িকভাবে সংস্কার করা হয়েছে। এছাড়াও অন্তত ৩টি বিমান পরিষেবা প্রতিষ্ঠানকে হালকা ওজনের বিমান চলাচল স্থগিত করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কিন্তু এ নিয়ে গণমাধ্যমে কথা বলতে রাজি হয়নি মালিকপক্ষ। এমনকি কারা এই নির্দেশ দিয়েছে কারা সেটিও জানা যাচ্ছে না।

বিবিসির এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়, বিমান বিধ্বস্তের পর ভবনটির ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সংস্কার করা হলেও তা সাময়িক। অর্থাৎ স্থায়ী কোনো সংস্কার হয়নি। আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য, এই সুউচ্চ ভবনটি আসলে চায়না ইন্টারন্যাশনাল ট্রাস্ট অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশনের সদর দপ্তর এবং কমিউনিস্ট পার্টির সদর দপ্তর থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠেছে, বিশ্বের অন্যতম কঠোর আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা থাকার পরেও বেইজিং-এর এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ জোনে কীভাবে প্রবেশ করলো উড়োজাহাজটি। কারণ, রাজনৈতিক জোনের প্রায় ১০০ বর্গ কিলোমিটার জুড়ে স্থায়ী নো-ফ্লাই জোন বলবৎ রেখেছে বেইজিং।

এমন সেন্সরশিপ চীনের জন্য নতুন কিছু নয়। তবে চীনা সামাজিক মাধ্যম থেকে সিআইটিআইসির যে কোন ছবি সরিয়ে ফেলার কারণে সন্দেহের মাত্রা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। যদিও আই অন ডিজিটাল চায়না নিউজলেটারের দাবি, এ নিয়ে এত লুকোচুরির কারণ, চীনা কর্তৃপক্ষ নিজেরাও এখনও দুর্ঘটনার সিকোয়েন্সটি ভালোভাবে পর্যালোচনা করতে পারেনি। এমনকি দুর্ঘটনাটি পরিকল্পিত কিনা- এমন আশঙ্কাও উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না।

ইএ