চীন থেকে এসি আমদানিতে রেকর্ড ইউরোপের; বেইজিংয়ের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধে অনিশ্চয়তা

তীব্র রোদ থেকে বাঁচতে ছাতা ব্যবহার করছেন পথচারীরা
তীব্র রোদ থেকে বাঁচতে ছাতা ব্যবহার করছেন পথচারীরা | ছবি: সংগৃহীত
0

চীন থেকে রেকর্ড পরিমাণ বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। তবে ইউরোপজুড়ে চলমান নজিরবিহীন তাপদাহে চীনা শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) আকাশচুম্বী চাহিদা ব্রাসেলসের এই পরিকল্পনাকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। সোমবার ইইউ ও চীন বাণিজ্য ভারসাম্য বজায় রাখতে একটি বিরল যৌথ বিবৃতি দিলেও বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা। সিএনবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ইউরোপের দেশগুলোতে বর্তমানে এসির চাহিদা তুঙ্গে, যার সিংহভাগই জোগান দিচ্ছে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলো। গত বছর চীনের সঙ্গে ইইউর পণ্য বাণিজ্য ঘাটতি ১৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬০ বিলিয়ন ইউরোতে (প্রায় ৪৭ লাখ কোটি টাকা)। চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে এই ঘাটতি আরও বেড়ে ৯৮ বিলিয়ন ইউরোতে পৌঁছেছে। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচটি এসি ব্র্যান্ডের একটিও স্থানীয় নয়। হাইয়ার, গ্রি ও মিডিয়া নামের তিনটি চীনা প্রতিষ্ঠানই ইউরোপের খুচরা বাজারের ৩২ শতাংশ দখল করে রেখেছে।

ইউরোপীয় বাণিজ্য প্রধান মারোস সেফকোভিচ বেইজিংয়ের বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর জানান, আগামী অক্টোবরের মধ্যে বাজার সুবিধা ও বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে দৃশ্যমান ফলাফল আসতে হবে। ইইউর অভিযোগ, চীন তাদের কোম্পানিগুলোকে অতিরিক্ত ভর্তুকি দিয়ে বাজার সয়লাব করছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইইউ সম্প্রতি চীনা সোলার প্রকল্প ও ই-কমার্স সাইটগুলোর ওপর কড়াকড়ি আরোপ শুরু করেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইউরোপ একদিকে সস্তা চীনা পণ্যের সুবিধা নিতে চায়, অন্যদিকে নিজেদের শিল্পকারখানা ও কর্মসংস্থান রক্ষা করতে চায়। তবে ডেনিস দেপোক্সের মতো বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই মুহূর্তে চীনা প্রযুক্তির ওপর থেকে হুট করে নির্ভরশীলতা কমানো ইউরোপীয় শিল্পের জন্য বড় ঝুঁকির কারণ হতে পারে। বেইজিংও সাফ জানিয়ে দিয়েছে, ইউরোপ কোনো নতুন বাণিজ্য বিধিনিষেধ আরোপ করলে তারা পাল্টা ব্যবস্থা নিতে দ্বিধা করবে না।

এএম