গুতেরেস জানান, দখলকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরাইলি বিধিনিষেধ এবং বিশাল আর্থিক ঘাটতির কারণে ত্রাণ সংস্থার কার্যক্রম পরিচালনা করা ক্রমেই অসম্ভব হয়ে পড়ছে। বর্তমানে এই সংস্থাটি গাজা, পশ্চিম তীর, লেবানন, জর্ডান ও সিরিয়ার প্রায় ২৬ লাখ ফিলিস্তিনিকে খাদ্য সহায়তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সুরক্ষা দিয়ে আসছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরাইলে হামাসের হামলার সঙ্গে ইউএনআরডব্লিউএর কয়েকজন কর্মী জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠার পর গত বছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র এই সংস্থায় তহবিল বন্ধ করে দেয়। এরপর সুইডেনসহ আরও কয়েকটি দেশ তাদের অনুদান স্থগিত করে। যদিও অধিকাংশ দেশ তদন্তের পর পুনরায় সহায়তা শুরু করেছে, কিন্তু বড় দাতা দেশগুলোর মুখ ফিরিয়ে নেয়া সংস্থাটিকে অস্তিত্ব সংকটে ফেলেছে। গুতেরেস বলেন, ‘সদস্য রাষ্ট্রগুলোর জরুরি আর্থিক সমর্থন ছাড়া এই সংস্থা আর চলতে পারবে না।’
জাতিসংঘ মহাসচিব আরও বলেন, সংস্থাটিকে দুর্বল করার জন্য অপপ্রচার, কুৎসা রটানো এবং কূটনৈতিক প্রতিবন্ধকতা তৈরির চেষ্টা চলছে। তিনি জানান, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এ পর্যন্ত গাজায় ইসরাইলি হামলায় ৩৯০ জন ইউএনআরডব্লিউএ কর্মী নিহত হয়েছেন। ইসরাইল ও হামাসের মধ্যকার সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও এক হাজার ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আর্থিক সংকট মোকাবিলায় সংস্থাটি ইতিমধ্যে তাদের সেবার সময় ২০ শতাংশ কমিয়ে দিয়েছে এবং স্থানীয় কর্মীদের বেতন হ্রাসসহ বিভিন্ন কৃচ্ছ্রসাধন নীতি গ্রহণ করেছে। জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক জানিয়েছেন, বর্তমানে এই সংস্থাটি একটি অস্তিত্ব সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ২০২৫ সালে সংস্থাটির ৩৩০ কোটি ডলার তহবিলের বিপরীতে মাত্র ২৭ শতাংশ বা ৮২ কোটি ৯০ লাখ ডলার অনুদান পাওয়া গেছে। বুধবার এই তহবিলের বিষয়ে চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করার কথা রয়েছে।





