‘বোকার মতো’ যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে ইরান; পাল্টা হামলা যুক্তরাষ্ট্রের

মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার
মার্কিন সামরিক হেলিকপ্টার | ছবি: সংগৃহীত
0

হরমুজ প্রণালিতে একটি পণ্যবাহী জাহাজে ড্রোন হামলার ঘটনায় ইরানের একাধিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হামলাকে ইরানের ‘বোকামিপূর্ণ যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন’ হিসেবে অভিহিত করার পর গতকাল (শুক্রবার, ২৬ জুন) এই পাল্টা আঘাত হানা হলো। বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, তারা ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন মজুতকেন্দ্র এবং উপকূলীয় রাডার স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। সেন্টকম এক বিবৃতিতে বলেছে, এই হামলা ছিল আগের দিন বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর চালানো ড্রোন হামলার ‘শক্তিশালী জবাব’। অন্যদিকে তেহরান দাবি করেছে, পণ্যবাহী জাহাজটি কৌশলগত এই জলপথ দিয়ে অননুমোদিত রুটে চলাচল করছিল বলেই তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।

সেন্টকম বলেছে, ‘ইরানি বাহিনীর অন্যায্য হামলা স্পষ্টভাবে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচলে যুক্তরাষ্ট্র সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত রাখবে।’ তবে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এই ঘটনার জন্য ‘চুক্তি ভঙ্গকারী মার্কিন প্রশাসন’কে দায়ী করেছে। আইআরজিসির দাবি, তাদের নৌবাহিনী পাল্টা জবাবে এই অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ‘আগ্রাসন পুনরাবৃত্তি হলে এর চেয়ে আরও বড় জবাব দেয়া হবে।’

ক্ষতিগ্রস্ত পণ্যবাহী জাহাজটির নাম ‘এভার লাভলি’ যা সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী। ব্রিটিশ সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থা ইউকেএমটিও জানিয়েছে, ওমানের দাহিত বন্দর থেকে ৭ দশমিক ৫ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ-পূর্বে এই হামলা চালানো হয়। জাহাজের মালিক প্রতিষ্ঠান ‘এভারগ্রিন’ জানিয়েছে, সব ক্রু সদস্য এবং পণ্য নিরাপদ রয়েছে। এই হামলার পর জাতিসংঘের ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (আইএমও) এই কৌশলগত জলপথে আটকা পড়া ১১ হাজার নাবিকের পরিকল্পিত উদ্ধার অভিযান স্থগিত করেছে।

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সরাসরি কিছু না বললেও বলেন, ‘আপনারা সব জানতে পারবেন। তারা গতকাল যা করেছে, তা আমি পছন্দ করিনি।’ মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এক্স-এ এক পোস্টে লেখেন, ‘সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়ন নিয়ে ইরানের কোনো অভিযোগ থাকলে তারা ফোন তুলতে পারে। কিন্তু সহিংসতার জবাব সহিংসতা দিয়েই দেয়া হবে।’ অন্যদিকে ইরানি পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের প্রধান ইব্রাহিম আজিজি অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার মাঝেই আবার ইরানে হামলা চালিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ১৪ দফার একটি সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে শত্রুতা বন্ধে রাজি হয়েছিল। সেখানে ৬০ দিনের জন্য কোনো মাশুল ছাড়াই বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার কথা ছিল। তবে হরমুজ প্রণালিতে মাশুল আদায় নিয়ে দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে এই পাল্টাপাল্টি হামলায় ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়েছে।

এএম