দীর্ঘদিন ধরে নিষেধাজ্ঞার ছায়ায় থেকে আইআরজিসি একটি বিশাল বাণিজ্যিক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে। তেল, নির্মাণ খাত থেকে শুরু করে শিপিং, টেলিযোগাযোগ ও বন্দর পর্যন্ত তাদের এই আধিপত্য বিস্তৃত। এখন দুই দেশ যখন যুদ্ধ বন্ধের চুক্তি নিয়ে আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখন এই অভিজাত বাহিনীই হতে যাচ্ছে এর অন্যতম বড় সুবিধাভোগী। এই চুক্তির ফলে ইরানের কয়েক বিলিয়ন ডলারের সম্পদ অবমুক্ত হতে পারে এবং বিশ্ব বিনিয়োগের জন্য দেশটির অর্থনীতির দুয়ার খুলে যেতে পারে।
ইরানের চারটি জ্যেষ্ঠ সূত্র জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, পুনরায় তেল রপ্তানি এবং বিদেশি বিনিয়োগ থেকে আসা আর্থিক সুবিধার একটি বড় অংশ হাতিয়ে নেয়ার জন্য আইআরজিসি সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। তবে ইরানের ব্যবসায়িক খাতে তাদের এই গভীর সম্পৃক্ততা চুক্তির পথে অন্যতম বাধা হয়েও দাঁড়াতে পারে। কারণ, এই বাহিনীর ওপর ‘সন্ত্রাসী সংগঠনের’ তকমা থাকায় দেশটির অর্থনীতিকে নিষেধাজ্ঞা মুক্ত করার প্রচেষ্টা জটিল হয়ে পড়বে।
ইরানের প্রয়াত বিপ্লবী নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির হাত ধরে আইআরজিসি প্রতিষ্ঠিত হলেও তার উত্তরসূরি আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির আমলে এই বাহিনী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে ব্যাপক শক্তিশালী হয়ে ওঠে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি খামেনির মৃত্যুর পর তারা আরও ক্ষমতাধর হয়েছে এবং খামেনির ছেলে মুজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে স্থলাভিষিক্ত করতে সহায়তা করেছে। তারা বর্তমান শান্তি চুক্তির প্রতি সমর্থন জানিয়েছে।
একটি জ্যেষ্ঠ সূত্র আইআরজিসিকে এই যুদ্ধের প্রকৃত ‘বিজয়ী’ হিসেবে অভিহিত করেছে। তাদের মতে, ইরানি ব্যবস্থার টিকে থাকা নিশ্চিত করার পর তারা এখন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সুবিধা নেয়ার জন্য সবচেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে। এই বাহিনী গত কয়েক দশকে নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই ইরানের বেশিরভাগ ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। তবে এ বিষয়ে আইআরজিসির কোনো মুখপাত্র মন্তব্য করতে রাজি হননি।
চলতি সপ্তাহে ঘোষিত অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিতে ইরানের ওপর থেকে তেল বিক্রির নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হবে। আর যদি পূর্ণাঙ্গ চুক্তি হয়, তবে দেশটি ৩শ বিলিয়ন ডলারের (প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা) একটি পুনর্গঠন তহবিল ব্যবহারের সুযোগ পেতে পারে। আইআরজিসির নির্মাণ শাখা ‘খাতাম আল-আনবিয়া’ বর্তমানে অবকাঠামো ও জ্বালানি খাতের শত শত কোম্পানি তদারকি করছে। বিদেশি কোম্পানিগুলো ইরানে বিনিয়োগ করতে চাইলে দেশটির আইন অনুযায়ী স্থানীয় অংশীদার নিতে হবে। ফলে বিনিয়োগকারীদের জন্য আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোই প্রধান মাধ্যম হয়ে দাঁড়াবে। এতে পশ্চিমা কোম্পানিগুলো আইনি জটিলতা বা পুনরায় নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ার ঝুঁকিতে থাকতে পারে।





