ইরান–যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিতে নতুন সংকট; ইসরাইলে ভোটারদের তোপের মুখে নেতানিয়াহু

বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু
বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু | ছবি: সংগৃহীত
0

ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু আগামী শরতের নির্বাচনে নিজের ক্ষমতা ধরে রাখার যে আশা করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি তা চরম নড়বড়ে করে দিয়েছে। ইসরাইলের লক্ষ্যগুলো অর্জিত হওয়ার অনেক আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান ও লেবাননে যুদ্ধ শেষ করার সিদ্ধান্ত নেয়ায় নেতানিয়াহুর সেই দম্ভোক্তি—‘আমরা মধ্যপ্রাচ্যের চেহারা বদলে দিচ্ছি’—এখন একেবারেই ফাঁকা বুলি মনে হচ্ছে।

দুর্নীতির অভিযোগ, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিতর্ক এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার সময় নিরাপত্তা ব্যর্থতার কারণে আগে থেকেই সমালোচনার মুখে রয়েছেন নেতানিয়াহু। এখন ভোটাররা যুদ্ধ পরিচালনা এবং ইসরাইলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মিত্র যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়েও বিচার করবেন। ৭৬ বছর বয়সী নেতানিয়াহু চলতি সপ্তাহে নিশ্চিত করেছেন যে, তিনি আগামী অক্টোবরের নির্বাচনে আবারও লড়বেন। যদিও জনমত জরিপ বলছে তার ডানপন্থি জোট এবার হারতে চলেছে। তবে ১৯৯০-এর দশক থেকে ইসরাইলি রাজনীতিতে আধিপত্য বিস্তারকারী এই নেতাকে পুরোপুরি বাতিলের খাতায় ফেলতে নারাজ বিশ্লেষকরা।

সমর্থকদের কাছে একসময় ‘কিং বিবি’ নামে পরিচিত নেতানিয়াহু সাম্প্রতিক ইসরাইলি ইতিহাসের সবচেয়ে প্রভাবশালী নেতা। কিন্তু তিনি এখন চরম ক্ষোভের পাত্র। ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের দাবি নস্যাৎ করা এবং ইরান ও তার প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক অবস্থান নেয়ার কারণে তার দল লিকুদ তাকে ‘সিকিউরিটি হক’ বা নিরাপত্তার কাণ্ডারি হিসেবে তুলে ধরলেও ৭ অক্টোবরের হামলায় সেই ভাবমূর্তি চূর্ণ হয়ে গেছে। গাজা ও লেবাননে হাজারো মানুষের মৃত্যু এবং ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর ব্যাপক প্রাণহানির পরও তিনি কোনো স্থায়ী বিজয় এনে দিতে পারেননি।

হিজবুল্লাহ নেতা হাসান নাসরুল্লাহ এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুকে ইসরাইলে উদ্‌যাপন করা হলেও হামাস এখনো গাজার বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে, ইরানে ধর্মীয় শাসকরা বহাল তবিয়তে আছে এবং লেবাননে হিজবুল্লাহ টিকে গেছে। বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদ বলেছেন, ‘নেতানিয়াহু যুদ্ধ হেরেছেন। সত্যের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তিনি ধসে পড়েছেন।’

নেতানিয়াহু বরাবরই মার্কিন প্রেসিডেন্টদের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়েছেন। ডেমোক্র্যাট জো বাইডেনের পর রিপাবলিকান ট্রাম্পও সম্প্রতি জুনে এক ফোনালাপে তাকে গালিগালাজ করেছেন। ২০২০ সালে আব্রাহাম অ্যাকর্ডের মাধ্যমে আরব দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করে একটি স্থায়ী রাজনৈতিক উত্তরাধিকার গড়ে তোলার যে স্বপ্ন তিনি দেখেছিলেন, গাজা যুদ্ধ তা অসম্ভব করে তুলেছে। এখন দুর্নীতি মামলা, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং ট্রাম্পের সঙ্গে দূরত্বের কারণে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।

এএম